ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চট্টগ্রামে ১৬টি আসন থেকে মোট ১৪৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে সোমবার (২৯ এপ্রিল) চট্টগ্রামে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়কে সৃষ্টি হয় অন্য রকম উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রার্থীদের পাশাপাশি ফরম জমা করেছেন দলীয় পরিচয়হীন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
আরও পড়ুন
রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে ৫ জন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুন্ড) আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৫ জন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালি-চান্দগাঁও) আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ১২ জন, চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে ১১ জন, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ১২ জন, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১ জন, চট্টগ্রাম-১৩(আনোয়ারা-কর্নফুলি) আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে ৩ জন ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে ৯ জন মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
এদের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণফোরাম, বাসদ, গণ অধিকার পরিষদ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পরীর পাহাড়ে অবস্থিত বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলা সদরে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে তৈরি হয় অন্যরকম নির্বাচনী আমেজ।
তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি নিষেধের কারণে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে ৫ জনের বেশি থাকার সুযোগ ছিলনা।
মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় পর নতুন রাজনৈতিক পরিবেশে অনুষ্ঠেয় আগামী সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনের হারানো অধিকার ফিরে পাবে এবং সুষ্টু-শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এমন প্রত্যাশার কথা জানান।
পাশাপাশি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে যে কোন ধরণের বাঁধা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৪ চট্টগ্রাম-৫, চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-৯ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে। চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থীরা জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে।
চট্টগ্রাম-১, চট্টগ্রাম-২, চট্টগ্রাম-৩, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৭, চট্টগ্রাম-১২, চট্টগ্রাম-১৩, চট্টগ্রাম-১৪, চট্টগ্রাম-১৫ এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনের প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা এবং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা) কার্যালয়ে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১) চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান ও মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মফিজুল হক ভূঁইয়া এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার (চট্টগ্রাম-৬) মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে।
রাউজান উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি হাসান মো. জসিম, রাউজান পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবু আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার উদ্দিন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৬) রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা লায়ন আসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৪) মনোনয়ন ফরম জমা দেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে।
একই কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।



