লঘুচাপে ভিজল চট্টগ্রাম নগরী,মাশুল দিল কর্মজীবী মানুষ!

স্বস্তি নাকি শাস্তি?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৪:১৯

টানা কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম আর তীব্র দাবদাহে যখন ওষ্ঠাগত ছিল সাধারণ মানুষের জীবন, ঠিক তখনই আকাশ ভেঙে নামল পরম কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপ আর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর মেলবন্ধনে রোববার (৫ জুলাই) দিনভর ভিজল বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।

কিন্তু প্রকৃতির এই আশীর্বাদ নিমিষেই যেন পরিণত হলো এক চিলতে অভিশাপে।

কখনো ঝুম, কখনোবা ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টিতে একদিকে যেমন জুড়ালো তপ্ত নগরী, অন্যদিকে নগরের চিরচেনা ড্রেনেজ ব্যবস্থার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উঁকি দিল রাজপথে।

রোববার সকাল থেকেই চট্টগ্রামের আকাশ ছিল মেঘলা, থমথমে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় কখনো হালকা, আবার কখনো মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ।

মাঝেমধ্যে দমকা হাওয়া মনে করিয়ে দিচ্ছিল লঘুচাপের তীব্রতা। তবে এই বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গেই চিরচেনা রূপে ফেরে চট্টগ্রামের নিচু এলাকাগুলো।

আগ্রাবাদ, জিইসি মোড়, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, দুই নম্বর গেট, হালিশহর ও পতেঙ্গার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর সড়ক মুহূর্তেই রূপ নেয় ছোটখাটো খালে। কোথাও হাঁটু পানি, কোথাওবা তার চেয়েও বেশি।

ফলে ছুটির দিনের পরের প্রথম কর্মদিবসে চরম বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা।

গণপরিবহনের সংকট আর থমকে যাওয়া যানজটে আটকে থেকে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগরের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর।

চকবাজার এলাকায় আটকে পড়া এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানালেন, “গরম থেকে বাঁচতে বৃষ্টি চাচ্ছিলাম সত্যি, কিন্তু এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই যদি রাস্তা নদী হয়ে যায়, তবে সেই স্বস্তি তো ঘরের বাইরে বের হওয়া মানুষের জন্য শাস্তি।”

নদীবন্দরে সতর্কতা, বৃষ্টি থাকবে আরও কয়েক দিন :

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বজ্রবৃষ্টি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় উপকূলীয় এই অঞ্চলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

মাছ ধরার ট্রলার ও সাধারণ নৌযানগুলোকে অপ্রয়োজনীয় নৌযাত্রা এড়িয়ে চলার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

একদিকে যখন জলাবদ্ধতা নাগরিক জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে, অন্যদিকে এই বৃষ্টি কৃষি ও পরিবেশের জন্য বয়ে এনেছে দারুণ সুসংবাদ।

খরতাপে পুড়তে থাকা গাছপালা ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ, স্বস্তি মিলেছে ধানি জমিতে। বিকেলের দিকে বৃষ্টির বেগ কিছুটা কমে এলে থিতু হতে শুরু করে জনজীবন। মানুষের উপস্থিতি বাড়ে রাজপথে।

তবে দিনশেষে এই বৃষ্টি আবারও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়ে গেল চট্টগ্রামের নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি ও মেগা প্রজেক্টগুলোর ওপর।

অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই কেন ডুববে কোটি মানুষের এই বাণিজ্যিক রাজধানী-এই প্রশ্নের উত্তর আরও একবার খুঁজতে বাধ্য করল রোববারের এই লঘুচাপের বৃষ্টি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি