দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে ওপারে কলকাতার মাটিতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সব ঠিকানায় ইতি টেনে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন।
কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রাজনৈতিক নেতা।
তার বয়স হয়েছিল মাত্র আটচল্লিশ বছর। রেখে গেছেন মাত্র এক বছর বয়সী যমজ দুই শিশুসন্তানকে, যারা হয়তো এখনো বোঝেনি যে তাদের বাবা আর কোনো দিন ফিরবেন না। প্রিয় মানুষের এমন প্রস্থান কাঁপিয়ে তুলেছে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে তার নিজ জনপদকে।
সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, কলকাতার উপহাইকমিশনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর রোববার ভোররাতে অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গীরা।
বেনাপোল সীমান্ত হয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছানোর পর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম জানাজা।
এরপর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও শেষ বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা সেরে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। সেখানে শেষ জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন একসময়ে রাজপথ কাপানো এই ছাত্রনেতা।
ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করছিলেন রোটন। গত ছয় দিন ধরে তাকে রাখা হয়েছিল কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)।
তার স্ত্রী আরেফা সুলতানা গণমাধ্যমকে এই কঠিন সত্যের কথা নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২১ সালে দলটির শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য মনোনীত হন।
ক্ষমতার পালাবদল আর জীবনের শেষ প্রান্ত এসে ভিন্ন এক বাস্তবতায় তার এই প্রস্থান রাজনৈতিক মহলেও এক গভীর শূন্যতার জন্ম দিয়েছে।
এক বছরের দুই যমজ শিশুর হাত ধরে যে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল, তা আজ থমকে গেছে এক সুদূর প্রবাসের হাসপাতালের বিছানায়।
কলকাতার মাটিতে শুরু হওয়া শেষ যাত্রার এই পথ এখন মিশে যাচ্ছে তার শেকড় চট্টগ্রামের রাউজানে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য কিংবা ভিন্ন পথ যাই থাকুক না কেন, একটি অকালমৃত্যু এবং একটি অসহায় পরিবারের এই শোক ছুঁয়ে যাচ্ছে সংবেদনশীল সব হৃদয়ে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


