শহরের কোলাহলপূর্ণ পোশাক কারখানার চত্বর থেকে শুরু হওয়া একটি প্রেমের সম্পর্ক গড়িয়েছিল পরিণয়ে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই সম্পর্কের স্থায়ীত্ব টিকল মোটে আটটি মাস।
ফটিকছড়ির নিভৃত এক গ্রামে দ্বিতীয় সংসারের ছাদতলে ঘটা এক মর্মান্তিক ঘটনায় নিভে গেল লাকি আকতার (৪২) নামের এক নারীর জীবন প্রদীপ।
শনিবার উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের হচ্ছারঘাট এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মুনসেফ আলী বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত লাকি আকতার ওই এলাকার মো. ইউনুছ ওরফে মনার স্ত্রী ছিলেন।
জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে শহরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত অবস্থায় পরিচয় হয় লাকি ও ইউনুছের। সেই পরিচয় ধীরে ধীরে রূপ নেয় প্রেমে।
দুজনেরই এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বিয়ের পর ইউনুছ তার স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এসে আলাদাভাবে বসবাস শুরু করেন। এদিকে ইউনুছের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানরা অন্যত্র থাকেন।
শনিবার দুপুরে কাজ শেষে বাড়ি ফেরেন স্বামী ইউনুছ। এসেই তিনি দেখতে পান ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। কিছুটা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে শোবার ঘরের দিকে তাকাতেই তার চোখ কপালে ওঠে-ছাদের কাঠের খুঁটি বা গাছের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলছে লাকির নিথর দেহ।
তার আর্তচিৎকারে দ্রুত ছুটে আসেন পাশের বাড়ির এক আত্মীয়। তড়িঘড়ি করে ওড়না কেটে মরদেহ নিচে নামানো হলেও ততক্ষণে সব শেষ।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফটিকছড়ি থানা পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের ভাই-বোনেরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তবে এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, ঝুলন্ত অবস্থা থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


