ইট-পাথরের বেপরোয়া বাণিজ্যে সিডিএর লাল কার্ড!

৮ তলার অনুমোদনে ১১ তলা নির্মাণ, ৭ ভবনে চড়াও ম্যাজিস্ট্রেট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:১৯

অনুমোদিত নকশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইটের ওপর ইট সাজিয়ে আকাশ ছোঁয়ার বেপরোয়া প্রতিযোগিতা চট্টগ্রাম নগরীতে নতুন নয়।

তবে সেই অনিয়ম আর ঝুঁকিপূর্ণ ইমারত নির্মাণের বেপরোয়া বাণিজ্যে এবার কড়া ‘লাল কার্ড’ দেখাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আইনের তোয়াক্কা না করা অসাধু ভবন মালিকদের বিশৃঙ্খলা থামাতে সিডিএর নির্বাহী দল মাঠে নামতেই স্পষ্ট হয়ে উঠল নগরজুড়ে বহুতল ভবনের বিপজ্জনক এক বাস্তব চিত্র।

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) নগরীর ব্যস্ততম কোতোয়ালি, ঐতিহাসিক স্থান চকবাজার এবং শিল্প-আবাসিক এলাকা পাহাড়তলীর মোট ৭টি ভবনে এক সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সিডিএর চিফ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হাসান এবং অথরাইজড অফিসার-২ তানজিব হোসেন।

৮ তলার নকশায় ১১ তলা: ম্যাজিস্ট্রেট দেখে চম্পট!

অভিযানের অন্যতম চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর দৃশ্যপট উন্মোচিত হয় একটি বহুতল ভবনে গিয়ে। নথিপত্রে যে ভবনের উচ্চতা ৮ তলা পর্যন্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে গিয়ে দেখা যায় সেখানে দাঁড়িয়ে গেছে ১১ তলার বিশালাকার ইমারত!

কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে আরও তিন-তিনটি তলা কীভাবে গড়ে উঠল-তা নিয়ে উঠে এসেছে নানা প্রশ্ন।

সিডিএর বিশাল বহর নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্রই অপরাধবোধ নাকি আইনের ভয়, কোন কারণে-তা স্পষ্ট নয়, তবে চম্পট দেন ভবন মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্ট সবাই।

আন্দরকিল্লায় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ অংশ, জরিমানা ২০ লাখ

অপরদিকে আন্দরকিল্লা এলাকায় অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মিত ভবনের বর্ধিত অংশগুলোতে আঘাত হানে সিডিএর হাতুড়ি। অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত ভেঙে অপসারণ করা হয়।

শুধু ভাঙচুরেই ক্ষান্ত থাকেনি কর্তৃপক্ষ, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের দায়ে সংশ্লিষ্ট ভবন মালিককে গুনে গুনে ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পরবর্তীতে ভবিষ্যতে কেবল অনুমোদিত নকশা অনুসারেই নির্মাণকাজ পরিচালনা করবেন, এমন মর্মে ভবন মালিকদের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামাও আদায় করা হয়।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ৫ ভবন: নাগরিক নিরাপত্তায় কঠোর সিডিএ

নকশা ব্যত্যয় ও ভবন নির্মাণে মারাত্মক অসঙ্গতি পাওয়ায় তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে ৫টি ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যিক সুবিধা পেতে গিয়ে যারা সাধারণ মানুষ ও পুরো নগরের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলছেন, তাদের জন্য এই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ ছিল এক কড়া বার্তা।

অভিযান শেষে সিডিএর চিফ স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনজুর হাসান সাফ জানিয়ে দেন, নগরীকে নিরাপদ ও সুপরিকল্পিত রাখতে কোনো ছাড় নয়।

তিনি বলেন, অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটিয়ে ভবন নির্মাণ এবং বেআইনি স্থাপনার বিরুদ্ধে সিডিএর এই অভিযান থামবে না, এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।

পরিকল্পিত নগর নিশ্চিত করতে সিডিএর এমন দৃশ্যমান ও কঠোর অবস্থান সাধারণ নগরবাসীর মনে স্বস্তি ফেরানোর পাশাপাশি অসাধু নির্মাণকারীদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি