আইএমএফের সঙ্গে ইতিবাচক পথে ৪৫০ কোটি ডলারের নতুন ঋণচুক্তি

ব্যাংককে অর্থমন্ত্রীর বড় বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:১৯

বিশ্ব অর্থনীতির নীতি-নির্ধারণী আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সেখানে সমবেত হয়েছেন বিশ্বের ১৯১টি দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অন্তত ১৫ হাজার প্রতিনিধি।

১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই বিশাল আয়োজনের ফাঁকেই উঠে এলো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বার্তা, আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণচুক্তির আলোচনা সুনির্দিষ্ট ও ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, প্রস্তাবিত নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফের সিংহভাগ শর্তের সঙ্গেই বাংলাদেশ একমত পোষণ করেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতি-নির্ধারণী সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুরোনো ঋণচুক্তি বাতিলের পর চলতি বছরের মে মাস থেকেই সংস্থাটির সঙ্গে নতুন একটি কাঠামোগত কর্মসূচি নিয়ে নিবিড় আলোচনা বা দর-কষাকষি চলছিল।

ব্যাংকিং ও নীতি সংস্কার কেন্দ্রিক এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের নতুন একটি ঋণ সহায়তা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পুরোনো চুক্তি বাতিলের অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে নতুন এই ঋণের শর্ত নির্ধারণে কিছুটা সতর্ক ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছে আইএমএফ।

তবে সংস্থাটি যেসব মূল বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছে, তার অনেকটাই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ।

আইএমএফ মূলত জোর দিচ্ছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর:
ব্যাংকিং খাতের প্রশাসনিক সংস্কার: খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

রাজস্ব আহরণ ও সংস্কার: কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি এবং কর কাঠামো আধুনিকায়ন।

ভর্তুকি সমন্বয়: সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যয় যৌক্তিকীকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতের সরকারি ভর্তুকি পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা।

পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা ও জলবায়ু কৌশল: সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের যথার্থতা রক্ষা করা এবং বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা গ্রহণ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থাইল্যান্ডের এই সম্মেলন বাংলাদেশকে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সামনে নিজেদের সামষ্টিক অর্থনীতির দৃঢ় সংকল্প তুলে ধরার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।

আইএমএফের সিংহভাগ শর্তে সহমত পোষণ করায় চূড়ান্ত চুক্তিটি বাস্তবায়নের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি