পরীক্ষা, ঈদ আর বিশ্ব ইজতেমার ব্যস্ত সূচির ফাঁকেই জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম বড় নির্বাচনী মহাযজ্ঞের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কোনো প্রকার জট ছাড়াই মেয়াদ উত্তীর্ণ প্রায় ৪ হাজার ৩০০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে পাঁচ ধাপের নতুন রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের কমিশন সভা শেষে এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কথা জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৈঠকে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারসহ ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভোটের দিনের নাগরিক সুবিধা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ধাপের ভোটগ্রহণের জন্য সপ্তাহান্তের ‘বৃহস্পতিবার’ দিনটিকে বেছে নিয়েছে কমিশন।
নতুন সূচি অনুযায়ী: প্রথম ধাপ: ২১ জানুয়ারি, ২০২৭ (বৃহস্পতিবার), দ্বিতীয় ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ (বৃহস্পতিবার), তৃতীয় ধাপ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৭ (বৃহস্পতিবার), চতুর্থ ধাপ: ১৩ মে, ২০২৭ (বৃহস্পতিবার) এবং পঞ্চম ও শেষ ধাপ: ২৭ মে, ২০২৭ (বৃহস্পতিবার)।
ইতঃপূর্বে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচন সাত ধাপে সম্পন্ন করার প্রাথমিক কথা থাকলেও সময়ের চ্যালেন্জ মোকাবিলায় তা পাঁচ ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।
কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, আগামী ছয়-সাত মাসের মধ্যে দুটি ঈদ, দুটি জাতীয় পরীক্ষা এবং বিশ্ব ইজতেমাসহ বেশ কিছু বড় বড় ইভেন্ট থাকায় সার্বিক শিডিউল অত্যন্ত টাইট হয়ে পড়েছিল।
এর আগে ২১ জানুয়ারির পূর্বেই ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা থাকলেও জনস্বার্থ ও বড় অনুষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে এই ভারসাম্যপূর্ণ সূচি তৈরি করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী যেসকল ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সেগুলোই প্রথম অগ্রাধিকার পাবে।
বিশেষ করে সদর উপজেলাগুলোতে আগে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা মূল ভোটের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন (বা ছয় সপ্তাহ) আগে নিজ নিজ এলাকার তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।
নির্বাচনী আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার স্পষ্ট করেন, যেদিন তফসিল ঘোষণা করা হবে, ওইদিন দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনকালীন সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দ্রুতই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে পৃথক বৈঠক বসবে ইসি।
ইতিপূর্বেই সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই তাদের প্রয়োজনীয় সব প্রশিক্ষণ শেষ হবে। এছাড়া নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের সাথে ধারাবাহিক সংলাপসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত থাকবে।
একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা যে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি শুরু করেছি, তা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চাই। এই সংস্কৃতি বজায় রাখতে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, সচেতন নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের আন্তরিক সহযোগিতা আশা করছি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


