স্কুল প্রাঙ্গণে যখন অ্যাম্বুলেন্সটি এসে থামল, ঘড়ির কাঁটায় তখন বিকেল তিনটে। চন্দনাইশের দোহাজারী জামিজুরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের চিরচেনা চত্বরে নেমে এল এক নিথর নীরবতা।
প্রিয় সহপাঠীর নিথর দেহ সামনে রেখে কান্নায় ভেঙে পড়ল সহপাঠীরা। শিক্ষকদের গলা দিয়েও আর শব্দ বের হচ্ছিল না।
হাম নামের এক নীরব ঘাতক কেড়ে নিল সপ্তম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী রাইসা তানিয়া রাধিকাকে?
দিনকয়েক আগে যে মেয়েটা বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা আর পড়াশোনায় মুখরিত করে রেখেছিল চারপাশ, আজ তার বিদায়বেলায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বিদ্যালয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় কুড়ি দিন আগে একবার অসুস্থ হয়েছিল রাধিকা। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর সে গিয়েছিল বোনের বাড়িতে বেড়াতে।
কিন্তু কে জানত, এই বেড়ানোই তার জীবনের শেষ ভ্রমণ হয়ে থাকবে? সেখানে থাকা অবস্থাতেই সে আক্রান্ত হয় হামে।
মুহূর্তের মধ্যেই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রামের ন্যাশনাল হাসপাতালে।
হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে হার মানেন রাধিকা। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
দোহাজারী পৌরসভার জামিজুরী ঘোড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মেয়ে রাধিকা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও তার ছিল অন্যরকম পারদর্শিতা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী ভারী কণ্ঠে জানান, রাধিকার এমন আকস্মিক ও অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন। তার মতো প্রাণোচ্ছল একটি মেয়েকে এভাবে হারিয়ে পুরো বিদ্যালয় পরিবার শোকে স্তব্ধ।
সহপাঠী ও শিক্ষকদের চোখের জলে ভেজা এই বিদায় কেবল একটি প্রাণের প্রস্থান নয়, বরং আমাদের সমাজ ও স্বাস্থ্য সচেতনতার খাতায় এক বিশাল সতর্কবার্তা রেখে গেল।
হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এমন তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
রাধিকার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তার শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে দোহাজারীবাসী।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


