যে চেনা মাটির স্পর্শে কেটেছে জীবনের ৫৫টি বছর, সেই চেনা আঙিনার কদম কয়েক দূরের পথটাই বুঝি শেষ পর্যন্ত বড্ড অচেনা হয়ে উঠল ফারুক আহমেদের জন্য।
দোকানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া সেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রৌঢ় আর জীবিত ফিরলেন না।
দীর্ঘ দু’দিনের উৎকণ্ঠা ও খোঁজাখুঁজির মর্মান্তিক সমাপ্তি ঘটল ঘরের পাশেরই এক পুকুরে-ভাসমান নিথর দেহ হয়ে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার জাফতনগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুফতি বাড়ির পুকুর থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ফারুক আহমেদ (৫৫) এর মরদেহ। তিনি ওই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, দৃষ্টিভাক্স ও শারীরিক নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন ফারুক আহমেদ।
গত দুই দিন আগে এক সাধারণ সকালেই ঘরের স্বজনদের ‘অদূরের দোকানে যাচ্ছি’ বলে বের হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময় গড়ালেও চেনা পায়ে হেঁটে আর ঘরে ফেরা হয়নি তাঁর।
প্রিয়জনের হঠাৎ এভাবে হারিয়ে যাওয়া মেনে নিতে পারেনি স্বজনরা, সম্ভাব্য সব স্থানে হন্যে হয়ে খোঁজ চালিয়েও মেলেনি কোনো সন্ধান।
অবশেষে শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরটিতে তাঁর মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে চিৎকার জানান স্থানীয়রা। মুহূর্তেই এলাকা জুড়ে নেমে আসে শোকের মাতম।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাফতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন জিয়া বলেন, ফারুক আহমেদ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
দু’দিন আগে দোকানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে পায়নি। আজ সকালে বাড়ির পাশের পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান।
তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী দল ফিরে এলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। ঘটনাটিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


