back to top

খসড়া গণমাধ্যম ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ ‘বিদায়ী পরিহাস’: টিআইবি

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩৮

খসড়া জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশকে দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের জনপ্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বাংলাদেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন, স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দাবি গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও প্রতিফলিত হয়েছিল।

তবে প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময় ধরে সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

শনিবার এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত উভয় কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি-বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক-কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তার মতে, এটি মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত।

সংস্থাটি বলেছে, জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতে অধিকতর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

একইসঙ্গে মাত্র তিন দিনের মধ্যে মতামত চাওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস হিসেবে দেখছে টিআইবি।

শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা এবং রাষ্ট্রসংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কারবিরোধী অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও বিষয়টি উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি হতাশাজনক হলেও এতে তারা মোটেও বিস্মিত নন।

কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা ছিল দৃশ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকার অভিযোগও উঠেছে।

মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই ধরনের প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানা সীমাবদ্ধতা এবং সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত কোনো অনুরূপ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতির প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছিল।

কিন্তু সরকার এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন ইফতেখারুজ্জামান।

ইফতেখারুজ্জামানের মতে, পারস্পরিকভাবে সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের অপরিণামদর্শী উদ্যোগের পরিবর্তে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা উচিত।

টিআইবি খসড়া দুটি তড়িঘড়ি করে অধ্যাদেশে পরিণত না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে।

টিআইবির প্রত্যাশা, নতুন সংসদ গঠনের পর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও জনপ্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবে এবং একটি প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবে।

এতে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশে মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করে সংস্থাটি।