back to top

অবশেষে জামিনে কারামুক্ত হলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬ ১৭:৫০

দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও ধারাবাহিক আদালতের শুনানির পর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী অবশেষে কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) রাত ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

আইভীর মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, বিকেলে জামিন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র কারাগারে পৌঁছানোর পর বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই শেষে রাত ১০টায় তাকে মুক্তি দেয়। মুক্তির পর তিনি পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মোট ১২টি মামলায় উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশে জামিন বহাল থাকায় তার কারামুক্তির আইনি পথ সুগম হয়। এর মধ্যে ১০ মে হাইকোর্টের দেওয়া ১০টি মামলার জামিন আপিল বিভাগ বহাল রাখে। পরবর্তীতে আরও দুটি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলেও ১৭ মে আপিল বিভাগ সেসব মামলাতেও জামিন বহাল রাখার নির্দেশ দেন।

এরপর আপিল বিভাগের আদেশগুলো নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিচারিক আদালতে পাঠানো হলে জামিন কার্যকরের জন্য আবেদন করা হয়। তবে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণে নথিপত্র পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ আইভীর মুক্তির আদেশ কার্যকর করে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার আইভীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে। পরবর্তীতে তিনি নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। ২০২৫ সালের ৮ মে রাতে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ গেলে এলাকায় তার সমর্থকদের ভিড় জমে। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর ৯ মে ভোরে তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

গ্রেপ্তারের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট তিনটি হত্যা মামলা এবং দুটি হত্যাচেষ্টা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে একাধিক মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও আইনি জটিলতার কারণে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

গত ২৬ এপ্রিল হাইকোর্ট তাকে নতুন কোনো মামলায় হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দেন এবং ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের ধারাবাহিক আদেশের ভিত্তিতে তার জামিন কার্যকর হওয়ায় তিনি মুক্তি পান।

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।