প্রকৃতির এক অদ্ভুত ও রহস্যময় নিয়মে সন্তান জন্মদানের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে এসে মানুষের তৈরি জালের ফাঁদে বন্দি হয়েছিল এক বিষধর পদ্ম গোখরো।
তবে সঠিক সময়ে সচেতন সর্পপ্রেমীর হস্তক্ষেপে কোনো ক্ষতি ছাড়াই প্রাণ ফিরে পেল এই বিরল সাপটি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে একটি চায়ের দোকানের নিরাপত্তা জালে আটকে পড়েছিল বিষধর পদ্ম গোখরোটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেটের সাথে পেঁচিয়ে থাকা সাপটি ছটফট করছিল। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ‘ওয়াইল্ড লাইফ এণ্ড স্নেক রেসকিউ টিম’-এর দক্ষ সদস্য আমীর হোসাইন শাওন।
তিনি কোনো ক্ষতি না করে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সাপটিকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করে দেন।
উদ্ধারকারী আমীর হোসাইন শাওন জানান, আনুমানিক ৩ থেকে সাড়ে ৪ বছর বয়সী এই পদ্ম গোখরোটি লম্বায় প্রায় ৪ ফুট। বছরের এই নির্দিষ্ট সময়টিতে পদ্ম গোখরো মূলত ডিম দিয়ে থাকে।
গর্ভবতী সাপটি সম্ভবত ডিম দেওয়ার জন্য কোনো নিরাপদ ও উপযুক্ত স্থান খুঁজছিল। লোকালয়ের কাছাকাছি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়েই চরণদ্বীপের চায়ের দোকানের জালের জালে আটকা পড়ে এটি।
শুধুমাত্র উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি আমীর হোসাইন শাওন; তুলে ধরেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও বিষদ বিশ্লেষণ।
সাধারণত পদ্ম গোখরো সাপের ফণার পেছনে গোল ইংরেজি ‘O’ আকৃতির মনোকল মার্ক বা চিহ্ন থাকে, যা দূর থেকে দেখলে বড় একটি চোখের মতো মনে হয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বোয়ালখালী ও আশপাশের এলাকায় উদ্ধার হওয়া কয়েকটি পদ্ম গোখরোর দেহে এই চিহ্নের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
শাওন আরও বলেন, সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া কয়েকটি পদ্ম গোখরোর ফণার পেছনের এই মনোকল মার্কটি অসম্পূর্ণ এবং দেখতে অর্ধচন্দ্রের মতো মনে হয়। এটি মূলত জিনগত তারতম্য বা মিউটেশনের কারণে ঘটছে।
প্রজাতিগত এই শারীরিক পরিবর্তন বন্যপ্রাণী গবেষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
লোকালয়ে সাপ দেখলে বা জালে আটকা পড়লে তা না মেরে বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া যে কতটা জরুরি, এই ঘটনা তার একটি অনন্য উদাহরণ।
ডিম ছাড়ার মুহূর্তে সাপটি প্রাণ রক্ষা পেয়ে পুনরায় বনে ফিরে যেতে পারায় একদিকে যেমন প্রকৃতির সাম্য বজায় থাকল, অন্যদিকে একটি অমূল্য বন্যপ্রাণী রক্ষা পেল।
আমীর হোসাইন শাওনের মতো নিঃস্বার্থ সর্পপ্রেমীদের উদ্যোগ পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


