মসজিদের দোকান ভাড়া ও বকেয়া পাওনা আদায়কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম পটিয়ায় মসজিদ পরিচালনা কমিটির মোতোয়াল্লিকে প্রকাশ্যে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার খবর জানাজানি হলে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পটিয়া পৌরসভার বৈলতলী রোড সংলগ্ন এলাকায় এ অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় আহত মোতোয়াল্লির নাম আবু ছিদ্দিক (৫৬)। তিনি পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম হাজী আবদুস ছত্তারের ছেলে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ ‘হাজী আবদুস সাত্তার জামে মসজিদ’ পরিচালনা কমিটির আওতাধীন একটি দোকান পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া নেন পটিয়া উপজেলা/দক্ষিণ জেলা যুবদল নেতা ও মসজিদ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তিপত্রের শর্ত তোয়াক্কা না করে তিনি পরবর্তীতে দোকানটি মো. ইমরান নামে অন্য এক ব্যক্তির কাছে উপ-ভাড়া (সাব-লেট) হিসেবে হস্তান্তর করেন।
শনিবার রাতে দোকানটির দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়া পজিশন মানি ও নিয়মিত ভাড়া আদায় করতে যান মোতোয়াল্লি আবু ছিদ্দিক। এ সময় উপ-ভাড়াটে ইমরানের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
খবর পেয়ে যুবদল নেতা শাহজাহান চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্যে মোতোয়াল্লি আবু ছিদ্দিককে বেধড়ক কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহত মোতোয়াল্লি আবু ছিদ্দিক ক্ষোভ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, মসজিদের নির্ধারিত বকেয়া পাওনা টাকা না দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যেই যুবদল নেতা শাহজাহান চৌধুরী ও তাঁর ক্যাডার বাহিনী পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দক্ষিণ জেলা যুবদল নেতা ও মসজিদ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, মোতোয়াল্লি অতর্কিতভাবে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়। মোতোয়াল্লিকে তিনি কিল ঘুষি মারেননি। রিক্সার সাথে লেগে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি জানেন না তিনি। কোন লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি।
পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও মোতোয়াল্লির ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


