এক রাতের অন্ধকার গলির আড্ডা থেকে সোজা থানায় ৪৪৫ জন

মুচলেকায় ছাড় পেল ২৯৩ কিশোর, ৬১ জনের কপালে আইনের কোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১১

আড্ডার ছলে রাতের অন্ধকারে কিশোরদের পাড়া-মহল্লায় উপস্থিতি কিংবা সন্দেহভাজন চলাফেরা-নগরের পাশাপাশি পুরো জেলা জুড়েই যা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছিল।

কিশোর অপরাধের এই ক্রমবর্ধমান বিস্তার রোধে অবশেষে শক্ত হাতে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে চালানো এক বিশেষ ও নজিরবিহীন অভিযানে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে, যার বড় একটি অংশই কিশোর।

সোমবার সকালে জেলা পুলিশের মুখপাত্র রাসেল আহমেদ এই অভিযান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেন।

রোববার সন্ধ্যা নামতেই বদলে যায় চট্টগ্রামের ১৭টি থানার চিরচেনা চিত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য কেন্দ্রস্থল হিসেবে চিহ্নিত পাড়া-মহল্লা, স্থানীয় বাজার, রেলস্টেশন, খেলার মাঠ এবং পরিত্যক্ত বা নির্জন এলাকাগুলোতে একযোগে হানা দেয় পুলিশ।

অভিযানকালে বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় লিপ্ত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা ৩৫৪ জন কিশোরসহ মোট ৪৪৫ জনকে আটক করে নিকটস্থ থানায় নিয়ে আসা হয়।

থানায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর অপরাধে সরাসরি কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ২৯৩ জন কিশোরকে শাস্তির মুখোমুখি না করে একটি সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।

মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাদের স্ব-স্ব অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ৬১ জন কিশোরের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযানে মাদকসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৯১ জন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়।

অভিযান শেষে থানাগুলোতে ডেকে পাঠানো হয় মুচলেকায় ছাড়া পাওয়া কিশোরদের বাবা-মা ও অভিভাবকদের।

সন্তানদের অপরাধের জগত থেকে দূরে রাখতে তাঁদের প্রতি কয়েকটি জরুরি পরামর্শ তুলে ধরে জেলা পুলিশ।

সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না-তার নিয়মিত খোঁজ রাখা। সন্তান কার সাথে মিশছে, পড়াশোনার অগ্রগতি কেমন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী ধরনের কনটেন্ট ব্যবহার বা চর্চা করছে সে বিষয়ে সচেতন থাকা। কোনোভাবেই যাতে সন্তান মাদকের ভয়াবহতা বা অপরাধপ্রবণ পরিবেশের সংস্পর্শে না আসে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।

অভিযান শেষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কেবল আইনি পদক্ষেপ বা পুলিশি নজরদারি দিয়ে কিশোর অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব নয়।

কিশোরদের সঠিক পথে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অপরাধের লাগাম টানতে এবং উঠতি বয়সীদের সুরক্ষায় এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম চট্টগ্রামজুড়ে অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি