আসল মাছের ভিড়ে নকলের ফাঁদ, কেওড়াজলে বিষ!

কর্ণফুলী মার্কেটে হাতেনাতে ধরা ৩ অসাধু ব্যবসায়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৪

প্লেটে সাজানো চকচকে মিষ্টির আড়ালে লুকিয়ে ছিল মেয়াদের ফাঁকি, রান্নার স্বাদ বাড়াতে কেনা কেওড়াজল ও কাশ্মীরি মরিচে মিলল বিষাক্ত রাসায়নিকের উপস্থিতি।

এমনকি বাজারের রূপচাঁদা বা দামি মাছের স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল কম দামি মাছ! সাধারণ ক্রেতাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন নানা প্রতারণার থলের বিড়াল অবশেষে বেড়িয়ে এসেছে এক ঝটিকা অভিযানে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের প্রখ্যাত কর্ণফুলী মার্কেটে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে প্রতারণার এই জাল উন্মোচন করে।

মেয়াদহীন মিষ্টান্ন, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও মাছে কারচুপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সহকারী ও উপপরিচালকদের নেতৃত্বে এই তদারকি অভিযান পরিচালিত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণ মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও মুখের স্বাদ মেটানোর পণ্যে কীভাবে অসাধুতার বিষ মেশানো হচ্ছিল।

দেশি ডেইরি অ্যান্ড দই ঘরে মিষ্টি বা দই কিনে নিশ্চিন্তে বাড়ি ফেরার সুযোগ নেই। এই দোকানে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে রাখা রয়েছে প্রচুর মেয়াদোত্তীর্ণ ও মেয়াদের তারিখবিহীন মিষ্টি ও দুগ্ধজাত পণ্য।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরির অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মানিক স্টোর দেখতে আকর্ষণীয় কিন্তু খেলে শরীর বরবাদ! মানিক স্টোরে পাওয়া যায় অননুমোদিত ও ক্ষতিকর রঙ মেশানো কাশ্মীরি মরিচ এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অননুমোদিত রাসায়নিকযুক্ত কেওড়াজল।

ক্রেতার স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অপরাধে তাদের ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া দেবব্রত দাসের মাছের দোকানে মাছে ভেজাল বা কারচুপির এক অভিনব রূপ দেখা গেল। ওজনে কারচুপির পাশাপাশি চড়া দামের মাছের সারিতে কৌশলে কম দামি মাছ মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। ক্রেতাদের পকেট কাটার এই ধূর্ত কারসাজি ধরা পড়ায় দোকানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দেন।

তিনি বলেন, ভোক্তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা কিংবা অনিরাপদ ও অননুমোদিত খাদ্যপণ্য বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।

পণ্যের সঠিক মান, মেয়াদ ও অনুমোদন নিশ্চিত করেই ব্যবসা করতে হবে। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আমাদের এই ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।

খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল ও প্রতারণা রুখতে ভোক্তা অধিকারের এমন কঠোর পদক্ষেপে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কর্ণফুলী মার্কেটে আসা সাধারণ ক্রেতারা।

অসাধু চক্রকে রুখতে এই ধরণের ঝটিকা অভিযান নিয়মিত চালুর দাবি জানান তারা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি