মমতা-কেজরিওয়াল আটক, উত্তাল দিল্লিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

এই স্বৈরাচারকে ভয় পাই না-পুলিশি বাসে বসে হুঙ্কার কেজরিওয়ালের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৯

ভারতের রাজধানী দিল্লির বাতাসে এখন তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার বারুদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের একদফা দাবিকে কেন্দ্র করে রাজপথ পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে।

একের পর এক রাজনৈতিক মহীরূহদের আটকের ঘটনায় গোটা দেশের নজর এখন দিল্লির লোধি এস্টেট ও যন্তর মন্তরের দিকে।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার পুলিশের জালে বন্দি হয়েছেন আম আদমি পার্টি (আপ)-র সুপ্রিমো তথা দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজপথ থেকে তাকে সহ দলের শীর্ষ নেতাদের তুলে নেয় দিল্লি পুলিশ।

পুলিশের বাসে বসে তীব্র হুঁশিয়ারি:
আটক হওয়ার ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে কেজরিওয়ালের একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও। চলন্ত পুলিশি বাসের ভেতর থেকে তোলা সেই ভিডিওতে দেখা যায়-কেজরিওয়াল, রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতারা গাদাগাদি করে বসে আছেন।

ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক কর্মীদের তীব্র চিৎকার ও রাজপথ কাঁপানো স্লোগান, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাই!

ভিডিওতে অত্যন্ত দৃপ্ত কণ্ঠে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই স্বৈরাচারকে আমরা ভয় পাব না। গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াইয়ে দিল্লি রাজপথেই জবাব দেবে।

জানা গেছে, ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নজিরবিহীন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আহ্বানে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল।

কেজরিওয়াল সেই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানোর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ তাকে এবং তার সঙ্গীদের ঘেরাও করে আটক করে।

পাঁচ হাজার কর্মী-নেতা আটক: থামছে না ক্ষোভের ঢেউ :
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজপথে কার্যত সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেবল একদিনেই আটক করা হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার আন্দোলনকারীকে।

সকালে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পরই আটক করা হয় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। একই ঘটনায় আটক হন ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) কেন্দ্রীয় সভাপতি নেহা বোরা, জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ সহস্রাধিক বিক্ষোভকারী।

কেন এই উত্তাল বিক্ষোভ?
সমস্যার মূল উৎস নিহিত রয়েছে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায়। বিরোধীদের দাবি, এই সংশোধনের নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিয়ে কারচুপি করা হয়েছে।

এই অনিয়মের সমস্ত দায়ভার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ওপর চাপিয়ে তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি, আপ, এআইএসএসহ একাধিক বিরোধী দল ও সংগঠন।

দিল্লির প্রবেশ পথগুলোতে কড়া পুলিশি পাহারা ও ব্যারিকেড সত্ত্বেও রাজধানী অভিমুখে আন্দোলনকারীদের ঢল নামায় তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।

পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশি ধরপাকড় বাড়ানো হলেও আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট বক্তব্য-কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

দিল্লির আকাশ-বাতাস এখন স্লোগানে মুখরিত, আর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে-এই আন্দোলন আগামী দিনগুলোতে ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণ আরও জটিল করে তুলতে পারে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি