খাদ্যে বিন্দুমাত্র শৈথিল্য নয়-পতেঙ্গায় জাহাজে উঠে খাদ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:৪৬

দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শস্য আমদানি থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত-প্রতিটি ধাপে শতভাগ সততা, পেশাদারত্ব ও কঠোর দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাই বা সরবরাহের যেকোনো ধাপে অবহেলা ও শৈথিল্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।

রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত গমবাহী জাহাজ এমভি ‘স্প্রিং স্কাই’ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী আমদানিকৃত গমের গুণগত মান পরীক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, নির্ধারিত প্যারামিটার ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড মেনে প্রতিটি লটের খাদ্যশস্য পরীক্ষা করতে হবে।

পরীক্ষার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই সরকারের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে। তাই নিম্নমানের খাদ্যশস্য কোনো অবস্থাতেই যেন জাতীয় খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা রাখতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ওপর দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন উল্লেখ করে আফরোজা খানম বলেন, জনগণের এই আমানত ও প্রত্যাশা রক্ষায় তিনি সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

খাদ্য খাতের সুশাসন নিয়ে মন্ত্রী জানান, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জটিলতাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগুলোর টেকসই সমাধান করা হবে, যার জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।

সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিছক কোনো দাপ্তরিক কাজ নয়, এটি সরাসরি জনসেবা।

দেশের একজন মানুষও যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে যেন সময়মতো খাদ্য পৌঁছে যায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

জাহাজ পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি