দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত থেকে অবসর নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়টি পরিবার ও সন্তানদের সান্নিধ্যে নতুন করে সাজাবেন।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে খাগড়াছড়ির আরামবাগের একটি বদ্ধ স্টোররুম থেকে শেষ হলো সেই জীবনের পথচলা।
রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলার আরামবাগ এলাকার বায়তুশ সড়কে অবস্থিত একটি সিগারেট কোম্পানির স্টোররুম থেকে সাবেক সেনা সদস্য সাইফুল ইসলাম রিয়াদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীদের সূত্রে জানা যায়, রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আরামবাগের বায়তুশ সড়কের ঐ স্টোররুমটির বন্ধ জানালার ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ভেতরে এক ব্যক্তিকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা।
মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্টোররুম থেকে উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করে।
নিহত সাইফুল ইসলাম রিয়াদ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ‘৪ বেঙ্গল’ ইউনিটের একজন সাবেক গর্বিত সদস্য ছিলেন।
সেনাজীবন থেকে সম্মানজনক অবসর গ্রহণের পর তিনি উক্ত সিগারেট কোম্পানির স্টোররুমে কর্মরত ছিলেন। একজন সুশৃঙ্খল সাবেক সেনাসদস্যের এভাবে আকস্মিক ও মর্মান্তিক বিদায় মেনে নিতে পারছেন না তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী বা স্থানীয়রা।
মৃত্যুর চেয়েও করুণ দৃশ্য ফুটে উঠছে তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে। নিহত সাইফুল ইসলাম স্ত্রী মোছা. হোসনেয়ারা লিপি এবং চার বছর বয়সী সাইফা ও মাত্র দুই বছর বয়সী রাইসা নামের দুই অবুঝ কন্যাসন্তানকে রেখে গেছেন।
বাবার এমন চলে যাওয়া বোঝার বয়সও এখনো হয়নি ফুটফুটে শিশু দুটির। তাঁর বৃদ্ধ বাবা মনসুর আহমেদ (৬৫) নিজেও একজন অবসরপ্রাপ্ত এসএসডি কুক।
মা লায়লা বেগম এবং প্রিয় পরিবারকে কাঁদিয়ে সাইফুলের এই অকাল প্রস্থানে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা কলাবাগান গ্রামজুড়ে এখন শুধুই শোকের মাতম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এরপর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও বিষদ অনুসন্ধানের জন্য লাশ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, এত সুসংগঠিত জীবনযাপন করা একজন সাবেক সেনাসদস্য কেন বা কীভাবে এই চরম পথ বেছে নিলেন-তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে দানা বাঁধছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আইনগত প্রক্রিয়া এবং তদন্তকাজ পুরোদমে চলছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।
সেনাপোশাক ছেড়ে বেসামরিক জীবনে একটু সুখের খোঁজে থাকা একটি তরতাজা প্রাণের এমন রহস্যময় পরিণতি সবাইকে ব্যথিত করে তুলেছে। তদন্তের মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসুক এই বিষাদময় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


