অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরার পর ব্রিগেডিয়ার দেবাশীষও গ্রেপ্তার

কী বলছে গোয়েন্দা পুলিশ?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২০

রাজধানীর বুকে হঠাৎই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক চিরুনি অভিযান, আর তাতেই উন্মোচিত হলো এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়।

সন্ত্রাস বিরোধী আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনের জালে আটকে গেছেন সেনাবাহিনীর দুজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা-অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা এবং সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর কৌশলগত কয়েকটি স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরাসরি যোগসাজশের গোয়েন্দা প্রমাণ মিলেছে গুলশান আরার বিরুদ্ধে।

তবে ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট মামলায় বা দণ্ডবিধির কোন ধারায় সাবেক এই নারী সেনা কর্মকর্তাকে শেষ পর্যন্ত গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, তা নিরাপত্তা স্বার্থেই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে খোলসা করেনি পুলিশ।

এদিকে, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নজর চলে আসে আরেক অবসরপ্রাপ্ত হেভিওয়েট কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়ার ওপর।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সন্ত্রাস বিরোধী ও সাইবার অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত কাজী গুলশান আরার সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরেই ডিবি পুলিশের বিশেষ দল দেবাশীষকে গ্রেফতার করে।

অবসরপ্রাপ্ত দুটি ভিন্ন পদের সেনা কর্মকর্তার নাম এভাবে একসঙ্গে একই ধরনের গুরুতর অপরাধের অভিযোগে উঠে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়।

তবে এর নেপথ্যে কোনো বড় অন্তর্ঘাতমূলক পরিকল্পনার জাল বোনা হচ্ছিল কি না-তা উদ্ঘাটনে জোর তদন্তে নেমেছে ডিবি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার মূল নথি এবং পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপের বিস্তারিত দ্রুতই সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি