বয়স মোটে ১৭, অথচ পুরো ম্যাচ ঘুরিয়ে দিচ্ছেন এক ইয়ামাল!

ম্যাচপ্রতি ৪.৩ গোলের অবিশ্বাস্য ঝড়ে ভাসছে বার্সা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৪৪

মৌসুমের শুরুতে আলোচনাটা বেশ জোরালোই ছিল। রবার্ট লেভানডফস্কি আর ফেরান তোরেস দল ছাড়ার পর এবার বার্সেলোনার হয়ে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাবেন কে?

তবে মাঠের পারফরম্যান্সে সে সব শঙ্কা আর প্রশ্নকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিচ্ছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। একের পর এক জয় আর গোলের বন্যায় ইউরোপীয় ফুটবল কাঁপিয়ে দিচ্ছে কাতালান জায়ান্টরা।

চ্যাম্পিয়নস লিগের রোমাঞ্চকর রাতে গতকাল গালাতাসারাইয়ের ঘরের মাঠে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ৪–১ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সেলোনা।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে সব ধরনের অফিশিয়াল প্রতিযোগিতায় মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচের ১০টিতেই জয় তুলে নিল তারা।

স্প্যানিশ ফুটবলের পরিসংখ্যানবিদ ‘মিস্টার চিপ’ জানিয়েছে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ঠিক ১০২ বছর পর এবারই প্রথম মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচ জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়ল বার্সা।

ইস্তাম্বুলের মাঠে ম্যাচের ২৮ মিনিটে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনা। কিন্তু এরপরই দেখা মেলে ফ্লিকের আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রকৃত রূপ। মাঝমাঠ ও আক্রমণের দারুণ সমন্বয়ে ম্যাচটি একপেশে বানিয়ে ফেলে তারা।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে অবশ্য সামান্য দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছিল বার্সা শিবিরে। পেদ্রির পেট ব্যথা করায় এবং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করায় ডাগআউটের ইশারায় তাঁকে তুলে নেন কোচ। তবে ততক্ষণে বার্সা ৪–১ ব্যবধানে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে।

ম্যাচ শেষে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি পেদ্রি সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে স্মরণ করিয়ে দেন, আমরা গোল পাব কি না, তা নিয়ে মৌসুমের শুরুতে বেশ কথা হয়েছিল। কিন্তু সেই সামর্থ্য যে এই দলের আছে, আমরা এখন মাঠেই তা প্রমাণ করে দিচ্ছি।

রাফিনিয়ার চোটের কারণে দলের বাইরে থাকা সত্ত্বেও হান্সি ফ্লিকের সিস্টেমে কোনো ঘাটতি টের পাওয়া যায়নি। কারণ মাঠে ছিলেন ১৭ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামাল।

পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একা হাতে ব্যস্ত রেখে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন দুটি চমৎকার গোল। ভাগ্য সহায় না থাকায় নিজে গোল না পেলেও চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচে ৮ গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট নিয়ে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছেন তিনি।

কোচ হান্সি ফ্লিক ইয়ামালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, এই পর্যায়ে তাঁর মতো একজন ফুটবলারকে দলে পাওয়া সত্যিই অসাধারণ ব্যাপার। সে একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে।

চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার পরিসংখ্যান যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই আতঙ্কের নাম। লা লিগায় ৮ জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ২ জয় সহ প্রথম ১০ ম্যাচে তারা গোল করেছে ৪৩টি!

অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি গড় গোল দাঁড়ায় ৪.৩, যা সাধারণ হিসেবে এক হালিরও বেশি!

অন্যদিকে পুরো সময়ে গোল হজম করেছে মাত্র ৯টি। ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টে প্রথম দুই ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়েছে ৯ গোল।

জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিক বার্সার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে স্রেফ রুদ্ররূপ ধারণ করেছে দলটি। তাঁর অধীনে এ পর্যন্ত ইউরোপসেরার আসরে ২৭ ম্যাচে ৮০টি গোল করেছে বার্সেলোনা। যার ম্যাচপ্রতি গড় ২.৯৬!

১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর থেকে হিসাব করলে, কোনো কোচের অধীনে অন্তত ২০ ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে এটিই সেরা গোলের গড়।

তবে দলে কেবল একজন বা দুজন নির্ভরতা তৈরি করছেন না, গোলদাতার তালিকায় এরই মধ্যে নাম লিখিয়েছেন ১০ জন ফুটবলার।

সম্মিলিত এই পারফরম্যান্স নিয়ে ফ্লিক বলেন, আমি আমার দলকে খুব ভালো করেই চিনি। যেভাবে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে, তা সত্যিই চমৎকার। আর প্রতিপক্ষ যখন গালাতাসারাই এবং প্রতিযোগিতা যখন চ্যাম্পিয়নস লিগ, তখন এমন উঁচু মানের পারফরম্যান্সই প্রত্যাশিত।

এত বড় জয় আর রেকর্ডের পরও উদযাপনে ভেসে যেতে নারাজ বার্সা কোচ।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের সংযত মানসিকতার পরিচয় দিয়ে ফ্লিক স্মরণ করিয়ে দেন, ফুটবল খুব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা অবশ্যই আনন্দিত, তবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য শিরোপা জয়। সত্যি বলতে, আমরা এখনো কিছুই জিতিনি। মে বা জুনে বড় শিরোপা জেতা সম্ভব, আর আমরা কেবল সেই লক্ষ্যেই প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি