চট্টগ্রাম কাস্টমসের ১১টি বড় লট খালাস করছে বিএমটিএফ

রাজস্ব বোর্ডের ঝুলিতে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:০৭

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে অবশেষে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) অনুকূলে ১১টি ভিন্ন লটের পণ্য খালাসের চূড়ান্ত অনুমতি মিলল।

সব ধরনের রাজস্ব ও প্রযোজ্য কর পরিশোধের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট বিএমটিএফ-এর অনুকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘ডেলিভারি অর্ডার’ জারি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এই আদেশে উল্লেখ করা হয়, নিলামে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলোর বিপরীতে নির্ধারিত অর্থ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং আগাম আয়কর পরিশোধের সব তথ্য নিখুঁতভাবে যাচাই করা হয়েছে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই এসব পণ্য হস্তান্তরের চূড়ান্ত ছাড়পত্র বা ডেলিভারি অর্ডার দেওয়া হয়।

৩ কোটি ৫১ লাখ টাকার রাজস্ব জমা
আদেশের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি লটের বিপরীতে সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ৬০ শতাংশ বাবদ মোট ২ কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ২১১ টাকা ৭০ পয়সা পরিশোধ করেছে বিএমটিএফ।

এই অর্থ ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর সেনানিবাস শাখার পে-অর্ডারের মাধ্যমে কাস্টমসের অনুকূলে জমা করা হয়।

এছাড়া মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৬৩১ টাকা ৭৬ পয়সা এবং আগাম আয়কর বাবদ ২৮ লাখ ১২ হাজার ৪২১ টাকা ১৭ পয়সা প্রদান করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এই তিন খাতে সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে মোট ৩ কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৪ টাকা ৬৩ পয়সা।

১১টি লটে কী কী পণ্য রয়েছে?
কাস্টমসের ডেলিভারি অর্ডারের ছক অনুযায়ী, বিএমটিএফ-এর খালাস করা ১১টি লটের তালিকায় রয়েছে বিচিত্র সব শিল্পপণ্য ও কাঁচামাল।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ ও মারলেক্স হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), মিথানল, ডুপ্লেক্স বোর্ড ও আর্ট পেপার, জেডএফ মেরিন গিয়ারবক্স, স্টেনটার মেশিন ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, গ্র্যানাইট টাইলস ও অপরিশোধিত গ্র্যানাইট ব্লক এবং খালি কনটেইনার।

পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে একাধিক বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আমদানি নীতি অনুযায়ী, কেবল শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার উপযোগী ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি’ ধারণকারীদের অনুকূলেই প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ পণ্য খালাস দেওয়া সম্ভব হবে।

রাসায়নিক দ্রবণ মিথানল খালাসের জন্য অবশ্যই বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র (NOC) জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিলামসংক্রান্ত প্রচলিত বিধিবিধান এবং আদেশে উল্লিখিত অন্যান্য শর্ত শতভাগ পরিপালন নিশ্চিত করেই কাস্টমস চত্বর থেকে মালামাল বের করতে হবে।

সময়সীমা ৩ দিন: অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা
ডেলিভারি অর্ডারে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আদেশ জারির পর থেকে পরবর্তী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে সমস্ত পণ্য খালাস করে নিতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালামাল সরাতে ব্যর্থ হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিলাম কমিটির সভার সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে ২৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট লটগুলোর চূড়ান্ত বিক্রয়াদেশ জারি করা হয়। এরপর অর্থ জমা ও তা কাস্টমসের রাজস্ব বিভাগে যাচাই প্রক্রিয়া শেষেই আজ ডেলিভারি আদেশ জারি করা হলো।

সার্বিক বিষয়ে রেভিনিউ অফিসার পীযূষ কুমার বিশ্বাস জানান, কাস্টমসের সকল বিধিবিধান ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই চূড়ান্ত আদেশের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।

নির্ধারিত সরকারি রাজস্ব প্রাপ্তি নিশ্চিতের পর বিএমটিএফকে ডেলিভারি আদেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে মিথানল ও প্লাস্টিক স্ক্র্যাপসহ যেসকল পণ্যে বিশেষ দপ্তরের অনাপত্তিপত্রের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, খালাসের সময় তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি