সিটিজি নিউজ টুডে : নির্বাচনী বৈরিতা ভুলে সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি আসন থেকে নির্বাচিত প্রার্থীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েও পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যতার নজির দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নুরুল আমিন।
বিজয়ের পর মিষ্টি ও ফুল নিয়ে তিনি ছুটে যান পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এডভোকেট মো. ছাইফুর রহমানের বাড়িতে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নে এডভোকেট ছাইফুর রহমানের বাসভবনে গিয়ে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নুরুল আমিন।
এ সময় দুই নেতা একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে কুশল বিনিময় করেন।এক প্রার্থী।
এডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেন, “বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নুরুল আমিন ভাই আমার বাড়িতে আসায় আমি আনন্দিত। ফলাফল ঘোষণার পর আমিও তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি।
আমরা একটি আলোকিত মিরসরাই গড়তে চাই। নতুন এমপি হানাহানি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য কঠোরভাবে দমন করবেন—এটাই প্রত্যাশা। উন্নয়নমূলক যেকোনো কাজে আমার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।”
বিজয়ী সংসদ সদস্য নুরুল আমিন বলেন, “নির্বাচন একটি প্রীতি ম্যাচের মতো। আমরা পরস্পরকে ভাই হিসেবে দেখি। বিএনপি ও জামায়াত দীর্ঘদিন একসাথে রাজনীতি করেছে।
ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ছাইফুর রহমান ভাইসহ সবাই আমার পাশে ছিলেন। আমরা একই এলাকার মানুষ। গণতন্ত্র রক্ষা ও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।
১৮ বছর আমরা একসাথে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছি। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা থাকলেও লক্ষ্য একটাই—মিরসরাইয়ের উন্নয়ন। সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ মিরসরাই গড়ে তুলব।”
নির্বাচন-পরবর্তী এই সৌজন্য সাক্ষাৎ এলাকায় ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী বিজয়ী হওয়ার পর প্রতিদ্বন্ধি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ছুটে যান তার বাড়িতে।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে তিনি আনোয়ার সিদ্দিকীর বাড়িতে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। পরে একে অপরকে মিষ্টি মুখ করান।
এসময় আসলাম চৌধুরী তার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর খোঁজ খবর নেন। তার সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করেন। সেইসাথে আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে আনোয়ার সিদ্দিকীর সহযোগিতা কামনা করেন।
কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, সকল ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করে এলাকার উন্নয়ন সমৃদ্ধি নিশ্চিতে ভুমিকা রাখার আহবান জানান।
জবাবে আনোয়ার সিদ্দিকী সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি আসলাম চৌধুরীকে মন্ত্রী হিসেবেও পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আজ শনিবার সকালেও পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেছেন বিজয়ী প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছেরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন একই আসন থেকে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে অবস্থিত ডা. আবু নাছেরের বাসভবনে উভয়ের সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেন।
এসময় এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ইস্যু, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং জনগণের কল্যাণে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
আলোচনায় কালুরঘাট সেতুর দ্রুত বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
পাশাপাশি যুবসমাজের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার বিষয়েও মতবিনিময় করেন তারা।
এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।
সাক্ষাৎ শেষে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
এভাবেই বিজয়ী-পরাজিত প্রার্থীদের মিষ্টিমুখ, সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়ে চট্টগ্রামবাসী খুশী। অনেকেই বলছেন অনন্য নজির স্থাপন করছেন চট্টগ্রামের প্রার্থীরা। কেউ কেউ বলছেন জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে রাজনীতি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


