back to top

সিটি কলেজে রণক্ষেত্র: ছাত্ররাজনীতির বিস্ফোরণ-স্থবির ক্যাম্পাস!

প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:২৫

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে একটি ভবনের দেয়ালে থাকা গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া উত্তেজনা বিকেলে আবারও সংঘর্ষে রূপ নেয়, যার ফলে কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

তবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষ ও মাস্টার্সের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের একটি ভবনের দেয়ালে ছাত্রশিবিরের আঁকা গ্রাফিতিতে লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সকালে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, স্লোগান এবং উত্তেজনা চলতে থাকে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।সিটি কলেজ

কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন বলেন, “সকালে গ্রাফিতির ওপর লেখা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুপুর ১২টার পর কলেজের অভ্যন্তরীণ ক্লাস এবং পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।”

সকালের ঘটনার পর পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগেই বিকেল ৪টার দিকে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির।

এ সময় উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায় এবং ক্যাম্পাসের সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে দেখা যায়।সিটি কলেজ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের অনেকটা নিষ্ক্রিয় দেখা গেছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক জাহিদুল আলম জয় অভিযোগ করেন, “আমরা কলেজে কিছু গ্রাফিতি এঁকেছিলাম। সেগুলোতে ছাত্রদল উস্কানিমূলক লেখা লিখে নষ্ট করেছে।

বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে প্রতিবাদ জানানো হয়। সকালে আমাদের কর্মীরা কলেজে গেলে ছাত্রদল বিনা উস্কানিতে হামলা চালায়।” তিনি দাবি করেন, এই ঘটনায় শিবিরের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।সিটি কলেজ

অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন বলেন, “ফেইসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়েছিল, যা কলেজ কর্তৃপক্ষ মিটমাট করতে পারত।

কিন্তু শিবির পরিকল্পিতভাবে বহিরাগত নিয়ে ছাত্রদলের ওপর হামলা চালিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন কর্মীও আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, “ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাফিতির লেখা পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হতে পারে না। এটি দীর্ঘদিনের ছাত্ররাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহিঃপ্রকাশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা ছড়ানো এবং দ্রুত মাঠে শক্তি প্রদর্শনের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষ করে, অনলাইন বিতর্ক থেকে সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেওয়া, বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং পুলিশের দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা। এসব বিষয় ভবিষ্যতে বড় ধরনের সহিংসতার ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

চট্টগ্রাম সিটি কলেজের সাম্প্রতিক এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্ররাজনীতির উত্তেজনা কত দ্রুত সহিংস রূপ নিতে পারে।

প্রশাসনের কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা না থাকলে এ ধরনের সংঘর্ষ আরও ঘন ঘন এবং ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।