back to top

দেওয়ানহাটে বিপুল মদ্যপ দ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-পেছনে বড় চক্রের ইঙ্গিত!

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:০১

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদ্যপ দ্রব্য উদ্ধার এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার সময় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৭৪৪ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করে। এসময় গ্রেপ্তার হয় মোহাম্মদ রুবেল নামে এক মাদক কারবারি।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, নগরীতে কি গড়ে উঠেছে সংগঠিত মদ সরবরাহ ও পাচার চক্র?

অভিযানের পেছনের তথ্য
ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সোর্সের তথ্যমতে মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম খানের সার্বিক দিক নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নির্দিষ্ট স্থানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে শহীদ নামে এক ব্যক্তির গুদামের সামনে থেকে এসব বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, ৭৪৪ ক্যান বিয়ার এককভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সাধারণত সম্ভব নয়—এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি বা নেটওয়ার্ক জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এটি একটি পরিকল্পিত বাণিজ্যিক সরবরাহের ইঙ্গিত বহন করে।

স্থানীয় সূত্রও বলছে-স্থানটি দীর্ঘদিন ধরে মালামাল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি:
এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মোহাম্মদ রুবেল স্বীকার করেছেন, তিনি এসব বিয়ার চট্টগ্রাম থেকে কম দামে সংগ্রহ করে কক্সবাজারে বেশি দামে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন।

বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, পর্যটনকেন্দ্রিক এই জেলাকে লক্ষ্য করে মদ্যপ দ্রব্যের চাহিদা থাকায়, এ ধরনের অবৈধ সরবরাহের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকতে পারে।

এক্ষেত্রে চট্টগ্রামকে সংগ্রহ কেন্দ্র এবং কক্সবাজারকে বাজার হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা নতুন করে নজরে আসছে।

কি ভাবছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা :
তদন্তকারীদের প্রশ্ন-রুবেল কি এই চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী,নাকি তিনি কেবল পরিবহন বা ডেলিভারি চেইনের একটি অংশ? গুদাম মালিকের ভূমিকাও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

গুদামটি কি নিয়মিতভাবে অবৈধ পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত এবং গুদাম মালিক এ বিষয়ে অবগত নাকি তার অজান্তেই ব্যবহার করা হয়েছে সেসব প্রশ্ন শাথায় নেয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম খান জানান, এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত মোহাম্মদ রুবেলের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দেওয়ানহাটে এই অভিযানে বিপুল মদ্যপ দ্রব্য আটক হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকা নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত—সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

বিশেষজ্ঞ একটি সূত্র মনে করছেন, এটি কি কেবল একজনের সীমিত উদ্যোগ, নাকি একটি সুসংগঠিত অবৈধ বাণিজ্য চক্রের অংশ তা নির্ধারণ করবে তদন্তের অগ্রগতি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি