বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরেছে এক পরিচিত দৃশ্য। বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে একদল কিশোর-কিশোরী, চোখে তাদের উচ্ছ্বাস, মনজুড়ে স্বপ্ন।
ব্যাটারের চার বা ছক্কায় বল গড়িয়ে এলে তারা দ্রুত তা কুড়িয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে মাঠে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই দৃশ্য নতুন নয়, কিন্তু বাংলাদেশে এটি যেন ফিরে এল নতুন এক পরিচয়ে, নতুন এক স্বপ্ন নিয়ে।
দীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবারও চালু হয়েছে বাউন্ডারির বাইরে দাঁড়িয়ে বল সংগ্রহ ও সরবরাহ করার এই ঐতিহ্য।
তবে এবার আর তাদের ‘বল বয়’ বলা হচ্ছে না। নতুন নাম—‘ফিউচার স্টারস’।
চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে দেখা যাচ্ছে এই নতুন উদ্যোগ। বাউন্ডারির ধারে দায়িত্ব পালন করছে অনূর্ধ্ব-১৪ ও অনূর্ধ্ব-১৬ বয়সভিত্তিক দলের কিশোর-কিশোরীরা।
মাঠের এতটা কাছে থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখা, প্রিয় তারকাদের খেলা উপভোগ করা এবং তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি তাদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
এই উদ্যোগের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ‘ফিউচার স্টার’-এর ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘বল বয়’ শব্দটি আমার কখনোই খুব একটা পছন্দ ছিল না। ওরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাই আমি ওদের বলতে চাই—ফিউচার স্টারস।
তামিমের এই নামকরণে আছে গভীর তাৎপর্য। কারণ, ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক বড় তারকার পথচলা শুরু হয়েছিল এই ভূমিকা থেকেই।
কিংবদন্তি ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার একসময় বল বয় ছিলেন। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল নিজেও এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।
একই পথ পেরিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, শাহরিয়ার নাফিস এবং পাকিস্তানের বাবর আজমও।
বাংলাদেশে একসময় নিয়মিত দেখা যেত এই চিত্র। কিন্তু ২০০৪-০৫ মৌসুমের পর তা হারিয়ে যায়।
দুই দশকের বেশি সময় পর আবারও সেই পুরোনো ঐতিহ্যের প্রত্যাবর্তন ঘটল। তবে এটি কেবল একটি হারানো সংস্কৃতির ফিরে আসা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার এক অর্থবহ উদ্যোগ।
মাঠের একেবারে কাছ থেকে খেলা দেখার সুযোগ কিশোর-কিশোরীদের মনে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
হয়তো আজ যারা বাউন্ডারির ধারে দাঁড়িয়ে বল কুড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের মধ্য থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের কোনো তামিম, আশরাফুল কিংবা আরও বড় কোনো তারকা।
ক্রিকেট কেবল একটি খেলা নয়; এটি স্বপ্ন দেখারও একটি মঞ্চ। আর সেই স্বপ্নের প্রথম পাঠশালা হতে পারে মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে কাটানো এই মুহূর্তগুলো।
‘বল বয়’ থেকে ‘ফিউচার স্টারস’—নামের এই পরিবর্তন তাই শুধু শব্দের রূপান্তর নয়, এটি ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা, সম্ভাবনার প্রতি সম্মান।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



