নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বড় লক্ষ্য তাড়া করেও দারুণ আত্মবিশ্বাসী জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কিউইদের ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে দুর্দান্ত সূচনা করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২৬ বলে ঝড়ো ফিফটি হাঁকিয়ে জয়ের নায়ক হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশকে ১৮২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেয় নিউজিল্যান্ড।
আরও পড়ুন
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন সাইফ হাসান ও তানজিদ তামিম।
দুজনের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে এনে দেয় দারুণ সূচনা। তবে পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ১৬ বলে ১৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফ।
এরপর ক্রিজে এসে দ্রুত রান তুলতে থাকেন অধিনায়ক লিটন দাস। এক ছক্কা ও দুই চারে ১৫ বলে ২১ রান করে টিম সৌধির বলে বোল্ড হন তিনি।
অন্যদিকে তানজিদ তামিমও এদিন নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ছিলেন না। ২৫ বলে ২০ রান করে বিদায় নেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
একপর্যায়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে সেই চাপ সামলে দলের হাল ধরেন পারভেজ ইমন ও তাওহীদ হৃদয়। দুজন মিলে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে আসেন।
পারভেজ ইমন ১৪ বলে ২৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি ছক্কা ও ১টি চার।
ইমন বিদায় নেওয়ার পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের ব্যাটিং। ক্রিজে এসে শুরু থেকেই কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হন শামীম পাটোয়ারী। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন তিনি।
অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। দুর্দান্ত টাইমিং, নিখুঁত শট নির্বাচন আর পরিণত ব্যাটিংয়ে ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেন তিনি।
তার এই ইনিংসেই সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের জয়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ও শামীমের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৮ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। টিম রবিনসন রানআউট হয়ে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
তবে এরপর চ্যাড বোয়েস—না, এই ম্যাচে দায়িত্ব নেন কাটেনে ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। তারা দ্বিতীয় উইকেটে গড়ে তোলেন শক্ত ভিত।
পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ড তোলে ১ উইকেটে ৬১ রান। এরপরও অব্যাহত থাকে ক্লার্ক ও ক্লেভারের ব্যাটিং তাণ্ডব।
ক্লেভার ২৮ বলে ৫১ এবং ক্লার্ক ৩৭ বলে ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। দুজনকেই ফেরান রিশাদ হোসেন।
মাঝের ওভারে বাংলাদেশের বোলাররা দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে। বেভন জ্যাকবস ২ বলে ১ রান করে তানজিম হাসান সাকিবের শিকার হন। ডিন ফক্সক্রফট ৭ বলে ৩ রান করে আউট হন শেখ মেহেদী হাসানের বলে।
চারে নেমে নিক কেলি ২৭ বলে ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তাকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম।
শেষদিকে জশ ক্লার্কসন ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলাররা রানের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বিশেষ করে শেষ ওভারে রিপন মণ্ডল দেন মাত্র ৬ রান।
ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেই সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি।
হৃদয়ের ঝলমলে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ তুলে নেয় স্মরণীয় এক জয়। সিরিজের শুরুতেই এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে টাইগাররা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



