খাগড়াছড়ির সংরক্ষিত বনেই নির্বিচার লুট, নেপথ্যে ‘চাঁদা ও চোরাচালান’

বন ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্রে দায়ী কি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া?

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ মে, ২০২৬ ১৫:৫৮

খাগড়াছড়ির পার্বত্য অঞ্চলে সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরেই নির্বিচার গাছ কাটার অভিযোগে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের সবুজ আচ্ছাদন ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে গেলেও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বন উজাড় এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংরক্ষিত ও অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল—দুই ক্ষেত্রেই চলছে ব্যাপক বৃক্ষ নিধন। সরকারি হিসাবেই অশ্রেণিভুক্ত বনভূমির পরিমাণ ৮৩৫৮.৭৬ একর, যার মধ্যে সংরক্ষিত বন ৬২০০ একর।

পানছড়ি উপজেলায় ২৪১৫ একর এবং মাটিরাঙ্গায় ৩৭৮৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে। কিন্তু এই বিপুল বনসম্পদের বড় অংশ এখন ধ্বংসের মুখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিনই চাপালিশ, চম্পাফুল, গামারি সহ মূল্যবান প্রজাতির গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।

এসব কাঠ পরে ইটভাটা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে পাহাড়জুড়ে সবুজের পরিবর্তে দেখা দিচ্ছে বিরান রূপ।

বন বিভাগীয় একাধিক রেঞ্জ—পানছড়ি, সদর, খাগড়াছড়ি, মাটিরাঙ্গা, জালিয়াপাড়া, রামগড় ও মানিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এই অবৈধ কাঠ পাচারের নেটওয়ার্ক সক্রিয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাশাপাশি এসএফএনটিসি ও বিভিন্ন বিট চেক স্টেশনকেও এই চক্রের অংশ হিসেবে সন্দেহ করছেন স্থানীয়রা।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি বিভিন্ন রেঞ্জ ও বিট অফিস থেকে মাসিক ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘চাঁদা’ আদায় করেন—যার বিনিময়ে চোরাকারবারিদের জন্য কাঠ পাচারের পথ সহজ হয়ে যায়। যদিও এসব অভিযোগের কোনো স্বাধীন যাচাই করতে এখনও অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে প্রতিবেদক।

পরিবেশবিদদের মতে, এই অব্যাহত বন উজাড় শুধু গাছের ক্ষতি নয়, বরং পুরো পাহাড়ি জীববৈচিত্র্যের ওপর আঘাত। বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় অনেক প্রজাতি এখন বিলুপ্তির পথে।

পিঠাছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, “বনের ওপর বাণিজ্যিক নির্ভরতা বন্ধ না হলে পরিবেশ বিপর্যয় আরও গভীর হবে। বন বিভাগের উদাসীনতাও এখানে বড় সমস্যা।”

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ফরিদ মিয়া জানিয়েছেন, বন থেকে অবৈধ কাঠ পরিবহন বন্ধে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ইটভাটায় বনের কাঠ ব্যবহার রোধে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, কাগজে-কলমে অভিযান ও আশ্বাস নয়, বাস্তবে কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া পাহাড়ের সবুজ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি