চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা প্রকৃতির বুক চিরে দাঁড়িয়ে থাকা ফয়’স লেক—যেখানে নীল জল, সবুজ পাহাড় আর রোমাঞ্চ মিলে তৈরি করেছে এক অনন্য অভিজ্ঞতার ঠিকানা।
সেই জায়গাকেই এবারের শিক্ষা সফরের জন্য বেছে নিয়েছিল ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি-এর একদল শিক্ষার্থী।
৬ মে রাতে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ৭ মে ভোরে চট্টগ্রামে পৌঁছান শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলিয়ে ৪৯ জনের দলটি।
শহরের কোলাহল পেছনে ফেলে সকালেই তারা পৌঁছে যান ফয়’স লেক রিসোর্টে। প্রাতঃরাশ শেষ করে নৌকায় ভেসে পৌঁছান বেইস ক্যাম্পে—যেখানে অপেক্ষা করছিল একের পর এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
পাহাড়ের কোলে শুরু দুঃসাহসিকতা
পাহাড়ি পরিবেশে ‘ট্রিটপ অ্যাক্টিভিটিস’ দিয়ে শুরু হয় দিনের অভিযান। গাছের ওপর দড়ির পথ ধরে ভারসাম্য রেখে এগিয়ে চলা—যা শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাকেও পরীক্ষা করে।
দল ভাগ করে প্রতিযোগিতামূলক এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা। যেন নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করেন।
এরপর ছিল অবস্ট্যাকল কোর্স—যা নগর জীবনে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য একেবারেই ভিন্ন অভিজ্ঞতা। কাদা, দড়ি, কাঠের বাধা—সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জিং হলেও আনন্দে ভরপুর।
শিহরণ জাগানো মুহূর্ত
লেকের এক পাশ থেকে আরেক পাশে চিকন তারে ঝুলে জিপলাইন—এ যেন আকাশে উড়ে যাওয়ার অনুভূতি। আর বিশাল জায়ান্ট সুইং-এ দোল খেয়ে অনেকেই বলছিলেন, “এটা জীবনের অন্যতম রোমাঞ্চকর মুহূর্ত!”
লেকের জলে কায়াকিং ছিল প্রশান্তির আরেক নাম। চারপাশে সবুজ পাহাড়, নীরব জল—এর মাঝে নৌকা বেয়ে চলা যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি আর্চারি, মাড ট্রেইলসহ প্রতিটি কার্যক্রমেই অংশ নেন শিক্ষার্থীরা।
সন্ধ্যায় উষ্ণতা, রাতে উচ্ছ্বাস
দিনভর ক্লান্তির পর সন্ধ্যার বারবিকিউ আয়োজন যেন সবাইকে নতুন করে প্রাণবন্ত করে তোলে। হাসি, গল্প আর সুস্বাদু খাবারের মধ্যে গড়ে ওঠে এক বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ।
প্রকৃতিবান্ধব ফয়’স লেকের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। অনেকেই জানান, “এখানে না এলে এমন অসাধারণ অ্যাডভেঞ্চারের অভিজ্ঞতা আমাদের অজানাই থেকে যেত।”
জলকেলিতে ভ্রমণের পূর্ণতা
ভ্রমণের আরেকটি আকর্ষণ ছিল সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্ক। কৃত্রিম সমুদ্রের ঢেউয়ে জলকেলি—যা পুরো সফরে এনে দেয় অন্যরকম উচ্ছ্বাস আর পরিপূর্ণতা।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব
এই ভ্রমণের সমন্বয়ক, ফয়’স লেক বেইস ক্যাম্পের কর্মকর্তা রকিব হোসেইন তুষার জানান, “অ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণে নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পুরো সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল নিরাপদ পরিবেশ, মজাদার খাবার এবং বিনোদনের নানা আয়োজন।”
ফিরে আসা, সঙ্গে স্মৃতি
তিন দিনের এই রোমাঞ্চকর ভ্রমণ শেষে ৯ মে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকার পথে রওনা দেন।
তবে ফয়’স লেকের পাহাড়, লেক আর অ্যাডভেঞ্চারের স্মৃতি থেকে যায় তাদের সঙ্গেই—যা হয়তো দীর্ঘদিন মনে করিয়ে দেবে, শেখার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা কখনো কখনো ক্লাসরুমের বাইরেই।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



