back to top

ত্যাগ ও মানবিকতার বার্তায় চট্টগ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

প্রধান জামাতে লাখো মানুষের ঢল,কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ৩০০ গাড়ি প্রস্তুত

প্রকাশিত: ২৮ মে, ২০২৬ ০৮:০৭

মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা ভাবগম্ভীর ও ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা। নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত।

প্রধান জামাতে ইমামতি করেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল কাদেরী।

পরে সকাল ৮টায় একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক।

নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানুষের সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ঈদের জামাতে অংশ নেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির নেতা সোলাইমান আলম শেঠসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চা।

তাঁর ভাষায়, কোরবানি কেবল পশু জবাই বা মাংস ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং লোভ-লালসা ত্যাগ করে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এর প্রকৃত তাৎপর্য।

তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহার চেতনাকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ত্যাগের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে হবে এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

বেলা ২টা থেকে শুরু হবে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম এবং আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে পুরো নগর পরিষ্কার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ কাজে ৩ হাজার ২০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৩০০টি গাড়ি নিয়োজিত থাকবে। পাশাপাশি নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক ৪১টি বিশেষ গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিবেশবান্ধব ইকো-ফ্রেন্ডলি প্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে, যা সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোরবানির বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে অথবা সিটি করপোরেশনের দেওয়া বিশেষ প্যাকেটে সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরের আরও ৯টি মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসব মসজিদের মধ্যে রয়েছে লালদীঘি শাহি জামে মসজিদ, শেখ ফরিদ (রহ.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী ভিআইপি আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুর বাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) চসিক জামে মসজিদ।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ত্যাগের শিক্ষা এবং মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে চট্টগ্রামে উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

নগরজুড়ে উৎসবের আবহের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগর গড়ার প্রস্তুতিও নিয়েছে সিটি করপোরেশন।