বান্দরবান থেকে ফেরার পথে পটিয়া বাইপাসে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী; ১০ দিন পর থামল জীবনযুদ্ধ। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি পরিবারের।
বান্দরবান থেকে ফেরার পথে পটিয়া বাইপাসে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী; ১০ দিন পর থামল জীবনযুদ্ধ। চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে তদন্তের দাবি পরিবারের।
বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঘটে যাওয়া একটি সড়ক দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরুণ শিক্ষার্থীর জীবন।
দুর্ঘটনার পর টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নাফিজ বিন ফারুকী (১৭)।
নাফিজ রাউজান উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মিরধারপাড়া গ্রামের বড় বাড়ির বাসিন্দা মো. ফারুক আহমেদের ছেলে। তিনি নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মে দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান থেকে মোটরসাইকেলে ফেরার সময় পটিয়া বাইপাস সড়কে একটি চলন্ত বাস হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নাফিজ ও তার বন্ধু আর. এক্স. ফাহিম গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে নাফিজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহতের স্বজন আয়াতুল্লাহ মুরাদ জানান, হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাফিজের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছিল।
তিনি স্বজনদের সঙ্গে কথাও বলছিলেন। পরবর্তীতে তাকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরে তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মারা যান।
এ সময় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান স্বজনরা।
রাউজান থানার ডিউটি অফিসার নাফিজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নিজ গ্রামে জানাজা শেষে সামাজিক কবরস্থানে নাফিজ বিন ফারুকীর দাফন সম্পন্ন করা হয়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



