রাতের নিস্তব্ধতা চিরে তখন কেবল এক সুর-অন্যায় ও চাপের মুখে মাথা নত না করার দৃঢ় শপথ। একদিকে হুমকি, ভয়ভীতি আর পরিবারকে জিম্মি করার কুৎসিত চেষ্টা, অন্যদিকে নিজেদের ন্যায়সংগত দাবিতে শিক্ষার্থীদের অটল সংগ্রাম।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বুকে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় ঘটে গেল এমনই এক অভাবনীয় ও জাগরণী ঘটনা।
বহিরাগত কিংবা অভ্যন্তরীণ কোনো চাপই থামাতে পারেনি প্রকৌশলবিদ্যার এই শিক্ষার্থীদের, মধ্যরাতেই গর্জে উঠেছে স্বাধীনতা চত্বর।
সংগ্রামের সূচনা রাত সাড়ে ১১টা থেকেই। চুয়েটের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে একে একে ছোট ছোট মিছিল এসে মিশতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র ‘স্বাধীনতা চত্বরে’।
শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল ব্যানার-ফেস্টুন, আর গলায় ছিল প্রতিবাদের আগুন। মুহূর্তের মধ্যেই জনস্রোতে পরিণত হয় চত্বরটি। এরপর মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকার গোলচত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্বাধীনতা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
পুরো সময়জুড়ে ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, অনলাইন ভিসি প্রত্যাখ্যান’, মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই-এমন স্লোগানে কেঁপে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।
আন্দোলন ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টাকে কড়া জবাব দিয়ে যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব হাসান বলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন আমাদের আন্দোলনের শক্তি বুঝি কমে আসছে।
কিন্তু আজকের মধ্যরাতের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে-সত্য ও ন্যায়ের লড়াই কখনো সংখ্যায় মাপা যায় না। আমাদের জনবল কমেনি, বরং আমাদের একতা আরও দৃঢ় হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের অন্তরালে কীভাবে মানসিক চাপ ও পরিবারকে লক্ষ্য করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা প্রকাশ করেন পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব।
ক্ষোভ ও দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেন, কতিপয় মহল আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন নস্যাৎ করতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, এমনকি আমাদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার নীলক নকশা আঁকছে। আমরা তাদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই-হুমকি ও ভয় দেখিয়ে প্রকৌশলীদের স্পিরিট দমানো যাবে না।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের দাবি মাত্র একটাই-কুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফুল আলমকে উপাচার্য পদে নিয়োগের যে বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এবং প্রকৌশলীদের প্রিয় ও যোগ্য অভিভাবক অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে।
উল্লেখ্য, উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে উত্তাল চুয়েট ক্যাম্পাস।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, একটি প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ও স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য প্রিয় শিক্ষকের পুনর্বহাল অপরিহার্য।
চাপ যত বাড়ছে, আন্দোলন তত তীব্র রূপ নিচ্ছে, আর মঙ্গলবার মধ্যরাতের এই গণমিছিল প্রমাণ করে দিল-দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছেন না চুয়েট শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


