চান্দগাঁও থানাধীন ঐতিহ্যবাহী কালুরঘাট শিল্প এলাকার বাদামতল মোড় থেকে হামিদচর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ককে এক নিমেষে অবৈধ দখলের নাগপাশ থেকে মুক্ত করেছে চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই কালুরঘাটের শাহাজী চত্বর (বাদামতল মোড়) থেকে শুরু করে হামিদচরগামী প্রধান সড়কের চিত্রটি বদলে যেতে শুরু করে।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দুই পাশ এবং জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র ভরসা ‘ফুটপাত’ দখল করে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ কাঁচা-পাকা দোকানপাট ও স্থাপনা। এতে শিল্প এলাকার দৈনন্দিন যানজট যেমন চরম আকার ধারণ করেছিল, তেমনি ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছিল পথচারীদের।
জনভোগান্তির এই চিত্রে পূর্ণচ্ছেদ টানতে চসিকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা-র নেতৃত্বে শুরু হয় বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।
বুলডোজার আর চসিকের তদারকি দলের উপস্থিতিতে একে একে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা। কোনো ধরনের শিথিলতা ছাড়াই মুক্ত করা হয় পুরো রাস্তার দু’পাশ ও পথচারীদের চলাচলের ফুটপাত।
অভিযান প্রসঙ্গে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, ফুটপাত ও সড়ক কেবলই সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য। এগুলো দখল করে ব্যবসা বা স্থাপনা গড়ে তোলার কোনো সুযোগ নেই।
প্রায় দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে ও নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এই ধরনের কঠোর আইনি অ্যাকশন অব্যাহত থাকবে।
উচ্ছেদ অভিযানটি সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শুরু থেকেই উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, এসআরবি-৭ (SRB-7)-এর চৌকস দল এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি সুসজ্জিত টিম।
অভিযানের পর মুহূর্তেই যেন এক নতুন রূপ ফিরে পেয়েছে কালুরঘাট শিল্প এলাকা। যানজটমুক্ত প্রশস্ত রাস্তা আর নিরাপদ ফুটপাত দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


