সাগরের কোল ঘেঁষে তৈরি হয়েছিল দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক। লক্ষ্য ছিল একটাই-নগরবাসীকে স্বস্তিতে ও নিরাপদে সাইকেল চালানোর পরিবেশ দেওয়া।
কিন্তু সেই ট্র্যাকেই যদি ভর করে অবৈধ পার্কিংয়ের দাপট, তবে সাইকেলের প্যাডেল থমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকার এই স্বপ্নের সাইকেল ট্র্যাককে যানজট ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত করতে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্মিত এ ঐতিহাসিক সাইকেল ট্র্যাকে রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) এক অভিযান পরিচালনা করে চসিক।
সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলা এই ঝটিকা অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল সাইকেলের স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচলের সুযোগ ফিরিয়ে আনা।
অভিযানকালে দেখা যায়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের তোয়াক্কা না করে সাইকেল ট্র্যাকিংয়ের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে একাধিক যানবাহন।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর তোয়াক্কা না করায় চসিকের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযানে দুটি মামলায় মোট ৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয় এবং আইন অমান্য করায় একটি গাড়ি জব্দ করা হয়।
এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা। এতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন চসিক অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট জোন কর্মকর্তা, তত্ত্বাবধায়ক, ওয়ার্ড সুপারভাইজার, চসিকের নিজস্ব স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং পতেঙ্গা থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল যৌথভাবে এ অভিযান সফল করতে সহযোগিতা প্রদান করে।
চসিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হয়েছে-সাইকেল ট্র্যাক কোনো গাড়ির পার্কিং জোন নয়।
পতেঙ্গায় ঘুরতে আসা পরিবেশপ্রেমী ও নগরবাসী যেন কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই সাইকেলিং উপভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর তদারকি ও তড়িৎ অভিযান নিয়মিত বিরতিতে অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


