প্রেমের ফাঁদে হারিয়ে গেল বিশ্বাস: বিয়ের আশ্বাস রূপ নিল ট্র্যাজেডিতে

বান্দরবান থেকে চট্টগ্রামে নিয়ে কিশোরীকে নির্যাতন, গ্রেপ্তার লোকমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩৩

পাহাড়ঘেরা বান্দরবানের নিভৃত কোণে গড়ে উঠেছিল এক রঙিন স্বপ্নের জগৎ। চোখে নতুন জীবনের নতুন দিগন্ত, আর হৃদয়ে প্রগাঢ় প্রেম-সবকিছু মিলিয়ে ১৫ বছরের এক কিশোরী বিশ্বাস করে বসেছিল এক প্রতিশ্রুতিকে।

কিন্তু সে জানত না, সেই ভালোবাসার আবডালে লুকিয়ে ছিল এক সুচতুর প্রতারণার জাল। সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের ফুল ফুটানোর অঙ্গীকার করেছিলেন অভিযুক্ত যুবক লোকমান।

সেই স্বপ্নকে সত্যি করতে গত ২ অক্টোবর বান্দরবান থেকে কিশোরীকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন তিনি। নগরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘনিয়ে আসে রাত। সে সময় লোকমান আশ্বাস দেন, আজকের রাতটা শহরের এক হোটেলে কাটাই, কাল ভোরেই আমাদের শুভ পরিণয় সম্পন্ন হবে। সরল বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে লোকমানের সেই কথায় সায় দেয় কিশোরী।

এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার আওতাধীন পুরোনো রেলওয়ে স্টেশন এলাকার ‘হোটেল হেরিটেজ’-এ।

হোটেলের দ্বিতীয় তলার ১১২ নম্বর কক্ষে ওঠার পর হঠাৎ করেই বদলে যায় লোকমানের আচার-আচরণ। বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে এক ভয়াল রূপ ধারণ করেন তিনি।

নিঝুম রাতে হোটেল কক্ষের বন্ধ দরজার আড়ালে কিশোরীর ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন ও জবরদস্তি। বিশ্বাসের জায়গায় এক মুহূর্তে স্থান নেয় বিভীষিকা।

প্রতারণার অধ্যায় এখানেই শেষ হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই ৩ অক্টোবর কিশোরীকে নগরের মুরাদপুর মোড়ে নামিয়ে দিয়ে নিজ দায়িত্বে কেটে পড়েন লোকমান। মুঠোফোনটি বন্ধ করে দিয়ে প্রবেশ করেন গভীর আত্মগোপনে।

একা, অসহায় ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় কিশোরী কোনোমতে নিজের ঘরে ফিরে আসে এবং চোখের জলে পরিবারের স্বজনদের কাছে বর্ণনা করে সেই ট্র্যাজেডির কথা।

সন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া এমন প্রতারণা ও নির্মমতায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে পরিবারটি। মানসিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর গত ১০ অক্টোবর তারা চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় গিয়ে লোকমানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এজাহার দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় পুলিশ। প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল রোববার ভোরে পরিচালিত এক অভিযানে মূল অভিযুক্ত লোকমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কুমার দে বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত লোকমানকে গ্রেপ্তার করেছি। আইন অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি