কুমিল্লার আলোচিত জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় কক্সবাজারের কলাতলী থেকে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু (২১) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল কলাতলীর বিকাশ বিল্ডিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়, নিহত তাজমিনের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রাজুর পরিচয় হয়।
বান্দরবানের লামা উপজেলার বাসিন্দা রাজু কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করতেন। মাস চারেক আগে ফেসবুকের মাধ্যমেই দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত ৪ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তাজমিন। তার বাবা আবদুল হালিম জানান, মেয়ে নিখোঁজ থাকার পরও তার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। তখন তাজমিন বান্ধবীর বাসায় আছে বলে জানায়। কিন্তু এর কিছুদিন পরেই আসে সেই মর্মান্তিক সংবাদ।
তদন্তে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজুর সঙ্গে কক্সবাজারের কলাতলীর মেঘলা রিসোর্ট নামের একটি আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন তাজমিন।
এর পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা ওই হোটেল ছেড়ে চলে যান। নিখোঁজের চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লার জগতপুর গ্রামের কাছিকাটা মসজিদসংলগ্ন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশের একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজুকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি তাজমিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, বিষয়টি তাজমিন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কুমিল্লা থেকে তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা এলে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, অন্যথায় আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এর আগে এ ঘটনায় মূল আসামি হিসেবে উল্লেখ করা সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় কীভাবে একটি জীবনকে এমন ট্র্যাজেডিতে রূপ দিতে পারে, তা নিয়েই এখন চলছে নানা আলোচনা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


