back to top

কুমিল্লায় ৮১টির মধ্যে ৪৭ ফিলিং স্টেশন বন্ধ

চাহিদার মাত্র ৫% সরবরাহ, বিপাকে যানবাহন মালিকরা

প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৫:৪৯

ডিপো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় কুমিল্লায় তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার ৮১টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ৪৭টি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

ফলে এসব স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরকারি তালিকা অনুযায়ী, সড়ক-মহাসড়ক ও নগর এলাকায় থাকা এসব ফিলিং স্টেশনের অধিকাংশেই গত কয়েক দিন ধরে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অনেকেই কার্যক্রম গুটিয়ে বসে আছেন।

ফিলিং স্টেশন মালিকদের অভিযোগ, পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপো থেকে চাহিদার মাত্র ৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রতিদিন একটি ফিলিং স্টেশনের চাহিদা যেখানে ৩০ থেকে ৪০ হাজার লিটার, সেখানে ডিপো থেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ১ হাজার লিটার। এ পরিমাণ জ্বালানি এনে পরিবহন খরচই উঠছে না।

একজন মালিক জানান, একটি তেলবাহী ট্যাংকার পূর্ণ করতে ১৫ থেকে ১৭ হাজার লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। সেখানে মাত্র ১ হাজার লিটার আনতে গেলে লোকসান গুনতে হয়।

ফলে অনেকেই ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমতলী এলাকার মাস্টার ফিলিং স্টেশনে পাঁচ দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ।

দায়িত্বরত কর্মী ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার লিটার চাহিদার বিপরীতে ১ হাজার লিটার এনে কী করব? তাই বিক্রি বন্ধ রেখেছি।”

মহাসড়কের সোনালী, ইস্টার্ন, বিপাশা ও কুমিল্লা ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ স্টেশনেই এক সপ্তাহ ধরে জ্বালানি নেই। নগরীর নুরুল হুদা ফিলিং স্টেশন ও টমছমব্রিজ এলাকার আব্দুল হাকিম ফিলিং স্টেশনেও একই চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে জ্বালানি সংকটে অনেক যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। মোটরসাইকেলচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, “তেল না থাকায় মোটরসাইকেল ঠেলে ৪ কিলোমিটার এনেছি। এখানে এসে দেখি অকটেন নেই। এখন রেখে চলে যেতে হবে।”

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পান্নারপুল ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে তিন দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন নেই। তবে একই এলাকার একটি দোকানে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খোলাবাজারে প্রতি লিটার অকটেন ও পেট্রোল ৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। পানির বোতলে করে হকারদের মাধ্যমে এসব জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে কালোবাজারি ঠেকাতে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলার সব ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, “জ্বালানি নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি