back to top

বাজারে যে কারনে সবজি বিক্রি হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৮:২১

কৃষক থেকে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে পৌঁছতে পৌঁছতে সবজির দাম বেড়ে প্রায় চার গুণ হয়ে যাচ্ছে। ঘন ঘন হাতবদল ও বাজার তদারকির দুর্বলতায় কৃষক থেকে দামের এই পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

এতে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, ভোক্তাদেরও কিনতে হচ্ছে চড়া দামে।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ সমস্যা সমাধানে কৃষি বিপণনকে অনলাইন ও অফলাইন দুটিতেই শক্তিশালী করাসহ বাজারব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে।

জেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা বেগুন বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে, আর শহরের বাজারে বিভিন্ন হাতবদল হয়ে সেই বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৮০ টাকা দরে।

একইভাবে শিম কৃষক পর্যায়ে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কিন্তু নগরীর বিভিন্ন বাজারে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, অথচ শহরে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বরবটির ক্ষেত্রেও একই চিত্র—কৃষক পর্যায়ে দাম ৩০ থেকে ৩২ টাকা, বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। ৩০ থেকে ৩৫ টাকার পটল শহরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

ঢেঁড়স ২০ থেকে ২৫ টাকা, কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। মিষ্টিকুমড়া কৃষক বিক্রি করছেন ১৭ থেকে ২০ টাকায়, অথচ খুচরা বাজারে দাম ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

লম্বা লাউয়ের দামেও ব্যাপক পার্থক্য—গ্রামে ১৫ থেকে ২৫ টাকা, আর শহরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা প্রতি পিস।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের একজন সবজি বিক্রেতা বলেন, “কৃষকরা স্থানীয় হাটে সবজি আনেন। সেখানে ফড়িয়া বা পাইকাররা দলবেঁধে দাম নির্ধারণ করে নেয়।

তারা সস্তায় কিনে শহরে পাঠায়। পথে কয়েকবার হাতবদল হওয়ার পর খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছায়—এই প্রক্রিয়াতেই মূলত দাম বাড়ে।”

তিনি মনে করেন, “যদি কৃষক ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাকত, তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভ কমে যেত, ফলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই উপকৃত হতো।”

সাতকানিয়ার একজন কৃষক বলেন, বৃষ্টিতে এবার উৎপাদন কম হয়েছে। খরচ বেড়েছে, কিন্তু দাম পাই না। সরকার বা কৃষি অফিস কেউ খোঁজ নেয় না। এভাবে আমাদের সংসার চালানো কঠিন।”

কৃষকদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রতি কেজি সবজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ করেন, আর প্রতিটি লম্বা লাউয়ে ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে পৌঁছানোর পর এই মুনাফা দুই থেকে চার গুণ বেড়ে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাইয়ে দিতে ‘কৃষি বিপণন’কে গ্রুপ করা প্রয়োজন। কৃষি বিপণনকে অনলাইন ও অফলাইন দুটিতেই শক্তিশালী করাসহ বাজারব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা জানালেন, মূলত বর্তমান বাজারব্যবস্থার কারণে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই ঠকছে, লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীরা।

এখন বাজারব্যবস্থাকে যদি কৃষকের অনুকূলে নেওয়া যায়, তাহলে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ই লাভবান হবে।

যেহেতু মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না, আমাদের কৃষকও ন্যায্য দাম পাবেন এবং ভোক্তারাও ন্যায্য দামে পণ্যসামগ্রী কিনতে পারবে। ’