back to top

স্বচ্ছ রাজনৈতিক শহিদুল ইসলামের টিকেট মিলেনি বিএনপিতে

হত্যা ও সন্ত্রাসের দায়ে বহিষ্কৃত নেতার মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:৪১

সারাদেশে বিএনপির সম্ভ্যাব্য মনোনয়ন প্রার্থীদের তালিকায় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গরীবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় স্বচ্ছ রাজনৈতিক বিএনপির ত্যাগী নেতা সাবেক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীকে রাখা হয়নি।

এতে হতাশার কালো ছায়া নেমে এসেছে গত ১৬ বছরে জুলুম নির্যাতনের শিকার মিরসরাই উপজেলা বিএনপির হাজারো তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে।

প্রাথমিক বাছাই তালিকায় তার নাম না থাকলেও তুমুল জনপ্রিয় এই নেতা রাতেই নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। কোন প্রকাশ বিক্ষোভ প্রদর্শন ভাঙচুর কিংবা অবরোধে বাধা দেন নেতাকর্মীদের।

সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সকল সাধারণ জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অতীতের মতো মিরসরাইয়ের গরীব মেহনতি মানুষের পাশে থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

বিতর্কিত মনোনয়ন প্রসঙ্গে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির ৭নং কাটাছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব নুরুদ্দীন জাহেদ বলেন, শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী গত ১৬টি বছর মিরসরাই উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে আগলে রেখেছেন।

স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার বিএনপির কোন নেতাকর্মীদের জেলে নিয়ে যাওয়ার পর ওই নেতাকর্মীদের পরিবারের ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন এই শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী।

গত ১৬ বছরের কোটি টাকা ব্যয় করেছেন জেলজুলুমের শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের পেছনে। ২৪এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী যে সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার চেষ্টা ছিলো সেই অনুযায়ী শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী মিরসরাইতে বিএনপির মনোনয়নের দাবিদার।

তাকে না দিয়ে সন্ত্রাসের দায়ে বহিষ্কৃতদের মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মিরসরাইতে সন্ত্রাসের লাইসেন্স দিয়েছেন বলে আমরা মনে করছি।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আকবর সোহাগ বলেন, ৫ আগষ্টের পরে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে মিরসরাইতে কোটি কোটি টাকার চাদাবাজি, লুটপাট ও দখল বাণিজ্য হয়েছে।

শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী নিজেকে এসব অপকর্মের সাথে ইচ্ছে করলে সম্পৃক্ত করতে পারতেন কিন্তু এসব লোভ লালসা থেকে নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন তিনি।

তিনি সব সময় সফল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহঙ্কার তারেক জিয়াকে আদর্শ হিসেবে মেনে চলতেন।

৫ আগষ্টের পর তারেক জিয়া যে রাজনৈতিক নীতি আদর্শের কথা বলতেন সেই রাজনৈতিক চর্চা করেছেন শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী।

কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দলিয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিজ দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, দলিয় নেতাকর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, দখল, চাদাবাজির দায়ে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃতদের। এর বিরুপ প্রভাব বিএনপির মাঠের রাজনীতি থেকে শুরু করে ভোটের বক্স পর্যন্ত গড়াবে।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, ২৪শের গণঅভ্যুত্থান ও ৫ আগষ্ট পরবর্তী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যে রাজনৈতিক চর্চার কথা বলেছেন বিএনপির মনোনয়নে তার বহিপ্রকাশ ঘটেনি। ঘটেছে ঠিক তার বিপরীত।

মনোনয়নকে কেন্দ্র করে মিরসরাইয়ে সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা নেমে এসেছে। শাহীদুল ইসলাম চৌধুরীর আর্থিক সহযোগিতায় মিরসরাই উপজেলা বিএনপির নেতারা রাজনীতি করেছেন।

গত ১৬ বছর নেতাকর্মীদের জামিন নেয়া, মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে দলিয় স্থানীয় ও জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের যাতায়াত খরচ, আপ্যায়ন খরচ দিয়ে আসছেন তিনি।

জাতীয় যত কর্মসূচি হয়েছে প্রতিটি কর্মসূচিতে মিরসরাই সকল নেতাকর্মীদের ঢাকায় হোটেল ভাড়া করে শতশত নেতাকর্মীদের তিনি আবাসন সহযোগিতা ও আপ্যায়ন ব্যয় তিনি নিজে একাই বহন করেছেন।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে দুই বার বাড়ি ঘর ভাঙচুরের শিকার হয়েছেন। তিনবার কারাবরণ করতে হয়েছে।

কারাগারে থাকা অবস্থায় মিরসরাই উপজেলা বিএনপির যত নেতাকর্মী কারাগারে ছিলো তাদের বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

আর্থিক, মানসিক, আইনীভাবে সহযোগিতা করে তিনি মিরসরাই উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের জনপ্রিয় মানবিক ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন।

তাকে মনোনয়ন না দেয়ায় আগামী নির্বাচনে বিএনপি মিরসরাই আসনটি বিপুল ব্যবধানে হাতছাড়া করতে পারে আশঙ্কা প্রকাশ করছি।

মনোনয়ন বঞ্চিত শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা বাইরে গিয়ে দলের বদনাম হয় এমন কোন অপকর্ম আমি কিংবা আমার অনুসারী কোন বিএনপির নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত হয়নি।

জাতীয়তাবাদী দলের নীতি আদর্শ পরিপন্থী কোন কাজে সম্পৃক্ত না থাকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে চেষ্টা করেছি। সাধারণ মানুষের কাছে দলের গ্রহণ যোগ্যতা যে ভাবে বৃদ্ধি পায় সেভাবে কাজ করেছি। তার সুফল হিসেবে মিরসরাই উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা আমি পেয়েছি।

কিন্তু আমি হয়তো কেন্দ্রীয় নেতাদের চাহিদা মোতাবেক তাদের খুশি করতে পারি নাই। তাই আমাকে মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয়নি।

৫ আগষ্ট পরবর্তী যারা পুরো মিরসরাই জুড়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দলের ইমেজ নষ্ট করে চুরি, ছিনতাই, দখল, লুটপাট, চাদাবাজি, হত্যা রাহাজানি করেছে যাদেরকে দল বহিষ্কার করেছে তাদেরকে মনোনয়ন তালিকায় রাখা হয়েছে।

তারা গত ১৬ মাসে হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। তাদের নির্যাতনে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে কেন্দ্রীয় নেতারা তাদেরকেই দলিয় লাইসেন্স দিয়েছে।

আমি ছাত্র জীবন থেকে বিএনপির রাজনীতি করি। আমার রক্তের সাথে মিশে আছে শহীদ জিয়ার আদর্শ। লুটপাট চাদাবাজি এসব আমার রক্তে নাই। যেহেতু কেন্দ্রীয় নেতারা ঘোষণা করেছে এটি চুড়ান্ত মনোনয়ন তালিকা নয়। পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে।

দল মনোনয়ন যাকে ইচ্ছা দিতে পারে। যাকে যোগ্য মনে করবে তাকে দিবে। কিন্তু যখন দেখা যায় একজন সন্ত্রাসের গড়ফাদারকে মনোনয়ন দিয়েছে তখন এই মনোনয়ন দলীয় আদর্শ ও নীতির সাথে প্রতরণা।

দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সাথে গাদ্দারি হয়ে যায়। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, সুন্দর ও অংশগ্রহণ মুলক স্বচ্ছ নির্বাচন হয়। ভোট কেন্দ্র দখল মুক্ত নির্বাচন হয় তাহলে সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃতদের ভোট দিবেনা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থনকারী।

মিরসরাইতে ৫ আগষ্ট পরবর্তী সন্ত্রাসীদের হামলায় ৩ জন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন পঙ্গু ও আহত হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মী।

যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে তাদেরকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়াটা বিএনপির জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছি।

আমরা আশা করবো চুড়ান্ত তালিকায় প্রকাশ্য সন্ত্রাসীদের পরিহার করে একটি গ্রহণ যোগ্য জনবান্ধব তালিকা প্রকাশ করবে প্রিয়দল বিএনপি।