back to top

শেয়ার আত্মসাত: ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৯:০৫

ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেওয়া অন্যরা হলেন— লতিফুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ রহমান ও ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারী।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক, আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পরে তাদের আইনজীবী স্থায়ী জামিন চেয়ে আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমানসহ তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিটে উল্লেখ করেন, গত ১৩/০৬/২০২০ তারিখে বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয় ঢাকায়। মিটিংয়ের এজেন্ডা ছিল ১. পূর্বের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুমোদন, ২. ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মিটিংয়ে অংশগ্রহণ ও ইলেকট্রনিক সিগনেচারের অনুমোদন, ৩. লতিফুর রহমান কর্তৃক শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে অনুমোদন।
এই মিটিংয়ে হাজিরা শিটে লতিফুর রহমানকে ছুটিতে দেখানো হয়েছে। হাজিরা শিটে আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও মিটিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লায় অবস্থান করেন। এই বোর্ড মিটিংয়ে তৃতীয় এজেন্ডার মাধ্যমে লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে তার বড় মেয়ে সিমিন রহমানকে ১৪ হাজার ১৬০টি (চৌদ্দ হাজার একশত ষাট), ছেলে আরশাদ ওয়ালিউর রহমান ও ছোট মেয়ে শাযরেহ হককে চার হাজার ৭২০টি (চার হাজার সাতশত বিশ) করে শেয়ারসহ সর্বমোট ২৩ হাজার ৬০০টি (তেইশ হাজার ছয়শত) শেয়ার হস্তান্তর করা হয়েছে। এই মিটিংয়ের বিষয়ে বাদী দাবি করেন, এই ধরনের বোর্ড মিটিং গত ১৩/০৬/২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়নি।
তদন্তকালে কম্পানির বর্তমান পরিচালককে গত ১৩/০৬/২০২০ তারিখের বোর্ড মিটিং ও রেগুলেশনের কাগজপত্র উপস্থাপনের জন্য বলা হলে আসামিপক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া ২০২০ সালে ভাই-বোনের ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে বেশির ভাগ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার জন্য সিমিন গ্রুপ অব কম্পানির নথিপত্র ও পারিবারিক ডিড অব সেটলমেন্ট তৈরি করেন। এ জন্য সিমিন রহমান দুটি ভুয়া স্ট্যাম্প এফিডেভিট ব্যবহার করে সেখানে ছোট বোন শাযরেহ হকসহ বাবা, ভাই ও অন্যদের স্ক্যান করা স্বাক্ষর ব্যবহার করে ট্রান্সকমের বেশির ভাগ শেয়ার ট্রান্সফারের দলিল তৈরি করেন এবং এগুলো আরজেএসসিতে দাখিল করেন সিমিন। শাযরেহ হকের নামে আরজেএসসিতে সিমিনের করা এফিডেভিটের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ২০২৩ সালে সৃজনকৃত বলে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে দেওয়া ডাক বিভাগ ও ঢাকা জেলা প্রশাসকের অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

চার্জশিটে আরো বলা হয়, জাল সন্দেহ হওয়ায় দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি প্রতিবেদন চান আদালত। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে ভেন্ডর থেকে এই স্ট্যাম্প দুটি সরবরাহের তথ্য রয়েছে, ওই ভেন্ডরের লাইসেন্স ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়। তিনি ২০২৩ সালের স্ট্যাম্পকে অসদুপায়ে সংগ্রহ করে আসামিপক্ষকে ২০২০ সালের ৩ মার্চ নিজ স্বাক্ষরে সরবরাহ করেন। এর আগে ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লতিফুর রহমানের অপর কন্যা শাযরেহ হক গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় লতিফুর রহমানের কন্যা সিমিন রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ করা হয়।