back to top

চট্টগ্রাম জেলার ১৩ আসনে ১৫৬২ ভোট কেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪৫

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৭:০৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে জেলার ১৩টি আসনে এক হাজার ৫শ ৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৪৫টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্য মতে,চট্টগ্রাম জেলার ১৬ থানা নিয়ে ১৩টি সংসদীয় আসন গঠিত। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৪, চট্টগ্রাম-৮ ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের আংশিক এলাকা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন।

নিরাপদ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে ১৫৬২ ভোট কেন্দ্রকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অধিক গুরুত্বপূর্ণ তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩৪৫টি ভোট কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জোরারগঞ্জ ও মিরসরাই থানা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১ আসনে ১৬ ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৬টি। এরমধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কোন কেন্দ্র নেই।

একইভাবে ফটিকছড়ি আর ভূজপুর থানা ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-২ আসনের ১৪০টি কেন্দ্রের তিনটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সন্দ্বীপ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৮৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) আসনে ১২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৮, চট্টগ্রাম-৫ (হাটাহাজারী-সিটি কর্পোরেশন আংশিক) আসনে ১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ৯৫ কেন্দ্রের মধ্যে ২১, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ছয়টি, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-পাঁচলাইশ আংশিক-চান্দগাঁও আংশিক) আসনে ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ২৫, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ১১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ২৪, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে ১১৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশসাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১০০ কেন্দ্রের মধ্যে ৯, চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে ১৫৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২২ এবং চট্টগ্রাম ১৬ (বাঁশখালী) আসনে ১১২ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এরমধ্যে সন্দ্বীপের ৮৩টি, চন্দনাইশের তিনটি, সাতকানিয়ার একটি এবং বাঁশখালীর তিনটি কেন্দ্রকে দূর্গম এলাকার কেন্দ্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, জেলার সাধারণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে দুই জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রগুলোতে তিন জন অস্ত্রধারী পুলিশ ও অস্ত্রসহ একজন সেকশন কমান্ডার মোতায়েন থাকবে।

এ ছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য এবং এক অথবা দুই জন করে প্রতিটি কেন্দ্রে গ্রাম পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে।

এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তায় অস্ত্রধারী একজন আনসার সদস্য, অস্ত্রধারী একজন সহকারী সেকশন কমান্ডারের নেতৃত্বে একজন আনসার ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।

অপরদিকে, নগরীর সাধারণ ভোট কেন্দ্রগুলোতে তিন জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে চার জন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং প্রতি কেন্দ্রে ১০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

তাছাড়া প্রতি ১০টি কেন্দ্রের জন্য পুলিশের একটি মোবাইল টহল টিম মোতায়েন থাকবে। সব ভোট কেন্দ্রের জন্যই থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।