বহু আলোচিত ও বিতর্কিত এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি)।
বুধবার থেকে নতুন এই পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। আগের জনবল, ক্ষমতা, লোগোর মূল নকশা এবং সমস্ত ভৌত সম্পদ সঙ্গে নিয়েই নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে এসআরবি।
এমনকি সামাজিক মাধ্যম, তথ্য আদান-প্রদানের অনলাইন গ্রুপ এবং অফিশিয়াল পেজগুলোতেও ‘আরএবি’ সরিয়ে বসানো হয়েছে ‘এসআরবি’।
এর আগে গত মঙ্গলবার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর গেজেট প্রকাশ করে সরকার। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে জাতীয় সংসদে বিলটি পাস হয়েছিল।
নতুন এই আইনের অধীনে র্যাবের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব, রেকর্ডপত্র, দায়িত্ব, বিদ্যমান সুবিধা এবং চলমান বিভাগীয় বা আইনি প্রক্রিয়া সরাসরি এসআরবিতে হস্তান্তরিত হচ্ছে।
সংস্থাটিকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, গ্রেপ্তার, তল্লাশি, নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ ব্যবহারের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তবে এই রূপান্তর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে জোর বিতর্ক। র্যাবের প্রধান সমালোচনার জায়গা ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) সদস্যদের ডেপুটেশনে ব্যবহার।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাহিনীর এই কাঠামো সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি উঠলেও, এসআরবির নতুন আইনেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে।
সংসদে আলোচনার সময় বিরোধী দলগুলো অভিযোগ তোলে, এটি প্রকৃতপক্ষে র্যাব বিলুপ্ত করা নয়, বরং পুরনো কাঠামো ও জনবল ঠিক রেখে স্রেফ একটি ‘সাইনবোর্ড পরিবর্তন’।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, মানুষ র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিল, কিন্তু একই ধরনের আরেকটি বাহিনী পুনর্গঠনের দাবি ছিল না।
তবে সব সমালোচনা খারিজ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে দাবি করেন, বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই র্যাব বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নতুন এই ইউনিটের সঙ্গে র্যাবের কোনো প্রশাসনিক সম্পর্ক নেই।
রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় রোধে র্যাবের সম্পদ এসআরবিকে হস্তান্তরিত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার পরিবর্তনের পরও পোশাক আর নামের এই আংশিক পরিবর্তন কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
মানবাধিকারকর্মী মো. নূর খান মন্তব্য করেন, সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি বহাল রেখে শুধু নাম বা পোশাক পরিবর্তন করলে বাহিনীর মূলে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসবে না। পুলিশের মধ্য থেকেই একটি বিশেষায়িত ও প্রশিক্ষিত আধুনিক দল গঠন করা যেত।
২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত সংস্থাটির এই নতুন রূপান্তর সত্যি কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে, নাকি স্রেফ নতুন মোড়কে পুরনো ব্যবস্থা হিসেবে থেকে যাবে-তা সময়ই বলে দেবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


