আশ্বিনের পুণ্যলগ্নে লাখো আশেকানের ঢল নামবে মাইজভাণ্ডারে

৩৮তম ২৬ আশ্বিন উরস, থাকছে সাত দিনের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:০২

বাংলাদেশে প্রবর্তিত একমাত্র বিশ্বসমাদৃত আধ্যাত্মিক ধারা ‘ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) প্র-পৌত্র, ত্বরিকার প্রোজ্জ্বল অধ্যাত্ম পুরুষ বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র ৩৮তম মহান ২৬ আশ্বিন উরস আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার মাইজভাণ্ডার শরিফ গাউসিয়া হক মন্জিলে পরম শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

আগত লাখো ভক্ত ও আশেকানের সুবিঘ্নহীন আগমন, অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার ফটিকছড়ি উপজেলা ভবনের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হল’-এ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম-এর সভাপতিত্বে এবং পার্বত্য রাঙ্গামাটি জুরাছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন ইমনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও দরবারের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমন্বয় সভায় দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মন্জিলের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, চমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সাইফুদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ তরিকুল আলম, উম্মুল আশেকীন মুনাওয়ারা বেগম এতিমখানা ও হেফযখানা পরিচালনা পর্ষদ সদস্য মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন চৌধুরী, ফটিকছড়ি প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মোঃ এমরান হোসেন, নানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম, এবং মন্জিল কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ওবাইদ নাঈম।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ধনঞ্জয় দেবনাথ, থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, নাজিরহাট হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আজিজুর রহমান, ভুজপুর থানার কর্মকর্তা মোঃ ইব্রাহিম সরকার এবং উপজেলা আনসার ভিডিপি প্রশিক্ষক হাসান আহমেদ।

এছাড়া ফায়ার সার্ভিস, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং স্থানীয় সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলোচনায় অংশ নেন।

সভা শেষে মিলাদ-কিয়াম ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র মাজার শরিফের খাদেম মাওলানা হাবিব উল্লাহ।

৭ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির রূপরেখা:
মহান ২৬শে আশ্বিন উরস শরিফ উপলক্ষে গাউসিয়া হক মন্জিল প্রতিষ্ঠিত শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট গ্রহণ করেছে সপ্তাহব্যাপী বহুমুখী ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি:

  • ০২ অক্টোবর (শুক্রবার): সারাদেশে কেন্দ্রিয় পর্ষদ নিয়ন্ত্রণাধীন শাখা কমিটিসমূহের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকার মসজিদে বা’দ জুমা বিশেষ কোরআন তেলাওয়াত ও মিলাদ মাহফিল।

  • ০৩ অক্টোবর (শনিবার): চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’ (৮ম তলা)-এ সকাল ১১টায় ‘হযরত মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)’-র জীবনী ও রচনাবলি শীর্ষক সেমিনার।

  • ০৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার): ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-র জীবনী আলোচনা, শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।

  • ০৭ অক্টোবর (বুধবার): স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা বিষয়ক বিশেষ আলোচনা।

  • ১০ অক্টোবর (শনিবার): ফটিকছড়ি উপজেলার সমস্ত নিবন্ধিত এতিমখানার কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একবেলা উন্নত মানের খাবার পরিবেশন।

  • ১১ অক্টোবর (রবিবার, মূল উরস দিবস): ভক্তদের সেবায় সুনির্দিষ্ট স্থানে ন্যায্যমূল্যে খাবারের দোকান পরিচালনা, ভক্তদের সচেতনতায় দিক-নির্দেশনামূলক প্রচার, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানীয় জল ও অস্থায়ী শৌচাগার স্থাপন।

  • ১২ অক্টোবর (সোমবার): ভোর ৬টায় হযরত কেবলার রওজা শরিফ মাঠ হতে শান-ই আহমদীয়া গেইট পর্যন্ত বৃহৎ পরিসরে মহাসাফাই ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি।

লাখো আশেকানের মহাসঙ্গমে পরিণত হতে যাওয়া এই উরস শরিফকে কেন্দ্র করে সমগ্র ফটিকছড়িজুড়ে বইছে এক আধ্যাত্মিক ও উৎসবমুখর আবহ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি