ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার ব্ল্যাকমেইল: পুলিশের কনস্টেবলকেও অপহরণ করে জিম্মি চক্র!

ইয়াবা দিয়ে ছবি-ভিডিও

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:০৫

দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের এক নির্জন এলাকা-স্থানীয়দের কাছে যা ‘ধাম’ নামে পরিচিত। দিনের আলো নিভলেই এলাকাটি যেন বদলে যায় এক আতঙ্কের জনপদে।

দীর্ঘদিন ধরে এই নির্জনতাকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন ও জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। তবে এবার তাদের ফাঁদে পড়েছেন খোদ এক পুলিশ কনস্টেবল!

অভিযোগ উঠেছে, সন্দ্বীপের বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল জামালকে ‘ধাম’ এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ওই অপরাধী চক্রটি।

এরপর তার হাতে জোরপূর্বক ইয়াবা ট্যাবলেট তুলে দিয়ে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দাবি করা হয় বড় অঙ্কের চাঁদা।

এই ঘটনায় অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম মূলহোতা আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাট এলাকায় পরিচালনা করা এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, কনস্টেবল জামালকে অপহরণ ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘ধাম’ এলাকাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় এই চক্রটির জিম্মি বাণিজ্য নতুন নয়। ইতিপূর্বেও একাধিক ব্যক্তিকে একইভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে ইয়াবা দিয়ে ছবি তুলে ব্লাকমেইল করা হয়েছে। লোকলজ্জা ও হুমকির মুখে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দিয়েছেন এই চক্রের হাতে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল করিমের অতীত অপরাধের চিত্রও। গত বছর পিডিবির সাবেক ঠিকাদার মিলাদুদ্দিন মুন্নাকে একইভাবে এই ‘ধাম’ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় করিম ও তার সহযোগীরা।

তাকে বেদম মারধরের পর সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং নতুন করে চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে সন্দ্বীপ থানায় একটি মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানান, কনস্টেবল জামালকে অপহরণের ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও যেখানে সুরক্ষিত নন, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তারা দ্রুত এই ‘ধাম’ কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী চক্রের সমূলে উৎপাটন এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি