মৃত্যুর কাছে হেরে গেল হাটহাজারীর এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিন

ঢাকার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪১

চট্টগ্রাম-নাজিরহাট মহাসড়কের চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনের সেই অভিশপ্ত বাঁকটি আবারো রক্তে রঞ্জিত হলো। মৃত্যুর সাথে দীর্ঘ দিন পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হেরে গেলেন দূরন্ত তরুণ, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাহিন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জীবনসংগ্রামের মোড়ে এসে পরীক্ষার হলে বসার কথা ছিল যে তরুণদের, তারা এখন কেবলই শোকের ইতিহাস। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ঠিক ১টার দিকে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় থমকে যায় সবকিছু।

সহপাঠীদের নিয়ে স্বপ্ন ছোঁয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশায় চেপে রওয়ানা হয়েছিলেন মাহিন। কিন্তু কে জানতো, চারিয়া বোর্ড স্কুল সংলগ্ন সড়কে ওত পেতে ছিল ঘাতক মাইক্রোবাস! মুখোমুখি প্রচণ্ড সংঘর্ষে মূহুর্তেই চুরমার হয়ে যায় অটোরিকশাটি।

দুর্ঘটনাস্থলেই রক্তভেজা সড়কে তাজা প্রাণ হারান সিএনজি চালক মো. এরশাদ (৩৫)। একই দুর্ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় মাহিন সহ তৌসিফ আহমেদ রাফি ও এরফানুল আনোয়ার ফাহিম নামের তিন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে।

স্থানীয়রা দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠালেও মাহিনের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায় তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

তবে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে কয়েকদিনের আপ্রাণ চেষ্টার পরও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ।

মাহিনের এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মাঝে নেমে এসেছে গুমোট শোকের ছায়া। যে ঘরে বই-খাতা আর এডমিট কার্ড সাজানো ছিল, সেই ঘরে এখন শুধুই আহাজারি। সহপাঠীরা বাকরুদ্ধ, শিক্ষকরা শোকাহত।

স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর বিপজ্জনক বাঁক প্রতিদিন কেড়ে নিচ্ছে তাজা প্রাণ। তৌসিফ ও ফাহিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও মাহিনের বিদায় পুরো এলাকাবাসীকে এক নিদারুণ কষ্টের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

ঘটনার পরপরই আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

হাটহাজারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সাথে জড়িত যানবাহন ও চালকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সকল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি