পাহাড়ের পাদদেশে ১৫ বছরের মাদক-জুয়ার টেক্কা, প্রশাসনের বুলডোজারে ধুলিসাৎ!

ইপিজেড থানার ওসির অনুরোধে মেয়রের নির্দেশনায় উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৩১

চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানাধীন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকবরশাহ এলাকার পাহাড়ি পাদদেশ। গত দেড় দশক ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে চলছিল জুয়া ও মাদকের রামরাজত্ব।

বার বার অভিযান চালিয়ে সাময়িক বন্ধ করা হলেও সুযোগ বুঝে ফের গজিয়ে উঠত নতুন নতুন আস্তানা।

আইনশৃঙ্খলার চোখ এড়াতে সম্প্রতি রাস্তায় বাঁশের প্রাচীর তুলে অভিনব প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টাও করেছিল চক্রটি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ঝটিকা অভিযানে উচ্ছেদ করা হয়েছে জুয়াড়িদের সেই নতুন দুর্গ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে আস্তানাটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রবেশ কঠিন করতে কায়দা করে যাতায়াতের পথে দুটি স্থানে বাঁশ দিয়ে প্রাচীর গড়ে তুলেছিল চক্রটি। তবে পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি আর যৌথ তৎপরতার কাছে তাদের সব কৌশল ব্যর্থ হয়।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ইপিজেড থানার এসআই আবু বকরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন ৬ জন জুয়াড়ি। উদ্ধার করা হয় ১৫ প্যাকেট তাস ও নগদ ৩০ হাজার ৯০০ টাকা।

পরদিনই, ৩ সেপ্টেম্বর রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় চাকমার উপস্থিতিতে পুলিশের দল ওই এলাকার আরেকটি ঘর ভেঙে দেয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়।

বারবার অভিযানের পরও নতুন করে ঘর তৈরি করার চেষ্টা করায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ব্যাহত হচ্ছিল আবাসিক এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ।

সমস্যা নিরসনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানান ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।

মেয়রের সরাসরি নির্দেশে সোমবার ইপিজেড থানা পুলিশের সহায়তায় চূড়ান্ত অভিযান চালিয়ে জুয়া ও মাদকের নতুন ঘরটি একবারে উচ্ছেদ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পাহাড়ি এলাকার এই চক্রটির বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি