ফটিকছড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

হাসপাতালে লাশ ফেলে স্বামী পলাতক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:০১

বিয়ের বয়স হয়েছিল মাত্র ছয় মাস। কিন্তু এই অল্প সময়ের ব্যবধানই কাল হয়ে দাঁড়াল উনিশ বছর বয়সী তরুণী সামিহা হাকিম নিহার জীবনে।

চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়িতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এই নববধাজূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

এমনকি ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তরুণীকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করতেই লাশ ফেলে কেটে পড়েছেন নিহার স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা। মর্মান্তিক ও রহস্যজনক এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহত নিহা ফটিকছড়ি পৌরসভার দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের রাজু সোলতান বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে।

ছ মাস আগে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. মারুফ পারভেজের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের রসায়ন স্বাভাবিক ছিল না। পরকীয়া নিয়ে উভয়ের মনে তৈরি হয় সংশয় ও পরস্পরের প্রতি সন্দেহ।

আর এই সন্দেহকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনের একটা বড় সময় জুড়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিহত নিহার বাপের বাড়িতে ফোন করে তাঁর স্বামী মারুফ পারভেজ জানান যে নিহা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এরপর মারুফ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মিলে নিহাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষার পর নিহাকে মৃত ঘোষণা করতেই বিপত্তি ঘটে। ধরা পড়ার ভয়ে বা দায় এড়াতে নিহার স্বামী ও তাঁর স্বজনেরা নিহার মরদেহ হাসপাতালেই ফেলে রেখে চম্পট দেন।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ দ্রুত নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে নিহার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কন্যার এমন নির্মম পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন মা রুপা আকতার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েটার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল মারুফ। একাধিকবার তাকে প্রহার করা হয়েছে।

আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মারুফকে বারবার সতর্ক করলেও সে নির্যাতন থামায়নি। মায়ের দাবি, নির্যাতন চালিয়ে মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর পুরো ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি প্রশাসনের কাছে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিহার হত্যাকারীদের কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, নিহত গৃহবধূর মা রুপা আকতার বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী মারুফ পারভেজসহ সুনির্দিষ্ট দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনের জন্য বুধবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি