ধরণীর বুক থেকে অন্যায়, অত্যাচার ও দুরাচার দূর করে সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের রক্ষায় দ্বাপর যুগের শেষভাগে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরায় অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
তাঁর এই পবিত্র জন্মতিথিকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর অপার ভক্তি ও শ্রদ্ধায় ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ হিসেবে উদযাপন করেন।
আজ এই মাহেন্দ্রক্ষণে রাজধানীসহ সারা দেশের মন্দিরগুলোতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, নামসংকীর্তন, গীতাযজ্ঞ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
ভক্তরা উপবাস থেকে পরম পুরুষোত্তম শ্রীকৃষ্ণের চরণকমলে নিজেদের আত্মনিবেদন করছেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দেওয়া পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল হিন্দুধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পরম পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও মহান সমাজসংস্কারক। তিনি সত্য, ন্যায় ও মানবকল্যাণের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় বিভেদ ও সংঘাত মোকাবিলায় শ্রীকৃষ্ণের দর্শন অনুসরণ করে ধৈর্য, সহনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
পৃথক এক বাণীতে বিশ্বজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
কেউ যেন দেশের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবের আমেজ
জন্মাষ্টমী উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে আজ সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী শংকর মঠ ও মিশন।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল বেলা ৩টায় পলাশীর মোড় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে, যা পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। রাতভর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চলবে শ্রীকৃষ্ণপূজা।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) স্বামীবাগ আশ্রমে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে।
সকালে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, কীর্তন মেলা, আলোচনা সভা ও সন্ধ্যা আরতির পর রাত ৯টায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনেও গীতা পাঠ, ভজন, প্রসাদ বিতরণ, শ্যামনাম সংকীর্তন ও শ্রীশ্রী মহামায়ার কাঠামো পূজার আয়োজন রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


