চট্টগ্রাম বন্দরে ১২ কোটি টাকার জালিয়াতি উন্মোচিত: পুরোনো পার্টস ঘোঘণায় এলো BMW-Lexus!

মাসেও মেলেনি আমদানিকারকের খোঁজ, তদন্তে কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:১১

ইউজড স্পেয়ার পার্টস বা পুরোনো যন্ত্রাংশ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছিল কন্টেইনারটি। কিন্তু বন্দর চত্বরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) কর্মকর্তারা যখন কন্টেইনারের সিলগালা ভাঙেন, তখন বেরিয়ে আসে চোখ কপালে ওঠার মতো দৃশ্য!

সাধারণ স্পেয়ার পার্টসের ভেতরে সুন্দরভাবে সাজানো বিশ্বখ্যাত বিলাসবহুল ব্র্যান্ড BMW, Lexus LX-600 এবং Lexus SC-430 মডেলের খুচরা যন্ত্রাংশ, আস্ত ইঞ্জিন এবং বিপুল পরিমাণ টায়ার।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এক বিশেষ অভিযানে এ চালানটি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, উদ্ধার করা এসব যন্ত্রাংশের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারমূল্য ৯ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

রহস্যময় চালান ও নীরব আমদানিকারক কাস্টমস সূত্র জানাচ্ছে, চালানটি জাপান থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর প্রায় এক মাস পার হয়ে গেলেও আমদানিকারকের পক্ষ থেকে কোনো ‘বিল অব এন্ট্রি’ দাখিল করা হয়নি।

সাধারণত বন্দর থেকে পণ্য খালাসের জন্য এই নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এতদিন ধরে আমদানিকারকের কোনো সাড়াশব্দ না থাকায় এটি নিলাম প্রক্রিয়ার দিকে যাচ্ছিল।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কৌশল হিসেবেই কন্টেইনারটি খালাস না করে নিলামের সুযোগ নেওয়ার পাঁয়তারা চলছিল। কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা সঠিক সময়ে অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির এই ঘটনা উন্মোচন করেন।

কন্টেইনারে পাওয়া গেছে-বিলাসবহুল ব্র্যান্ড BMW, Lexus LX-600, এবং Lexus SC-430 মডেলের যন্ত্রাংশ। আলাদাভাবে সংরক্ষিত শক্তিশালী ইঞ্জিন ও কাস্টম পার্টসসহ মূল্যবান কম্পোনেন্ট এবং বিপুল সংখ্যক টায়ার ও অন্যান্য এক্সেসরিজ।

তদন্তে মানিলন্ডারিং ও শুল্ক ফাঁকির আশঙ্কা
ঘোষিত পণ্যের সাথে বাস্তবে উদ্ধার হওয়া পণ্যের অস্বাভাবিক গরমিল থাকায় পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আমদানিকৃত অংশগুলো দিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি অ্যাসেম্বল করা সম্ভব কি না, কোন মডেলের কতটি গাড়ির পার্টস রয়েছে এবং প্রতিটি যন্ত্রাংশের প্রকৃত অবস্থা কাস্টমস ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

শুধু শুল্ক ফাঁকিই নয়, এই চালানের পেছনে অর্থ পাচার বা মানিলন্ডারিংয়ের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না-তা খতিয়ে দেখতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয়, এলসি (LC) খোলার মাধ্যম, বাণিজ্যিক নথি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি যন্ত্রাংশের উৎপাদন সাল, আন্তর্জাতিক বাজারদর এবং শুল্ক-কর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে হিসাব করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এর মাধ্যমে উন্মোচিত হতে পারে আন্তর্জাতিক চক্রের আড়ালে থাকা কোনো বড় ধরনের চোরাচালান সিন্ডিকেট।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি