পটিয়ায় গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরের দল পল্লী বিদ্যুতের একটি ট্রান্সফরমার চুরি করে নিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মাথায় ঘটনাটি ঘটে। এতে পটিয়া বিসিক শিল্প এলাকা, আশপাশের বাসাবাড়ি এবং স্থানীয় একটি খ্রিষ্টান ধর্মীয় উপাসনালয় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের বিসিক শিল্প এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতের আঁধারে চোরের দল বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে ট্রান্সফরমারটি নিচে নামায়। পরে ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও তেল বের করে নিয়ে শুধু খোলসটি সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা খুঁটিতে ট্রান্সফরমার না দেখে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সদর দপ্তর ও পটিয়া থানা-পুলিশকে খবর দেন।
পটিয়া ব্যাপটিস্ট চার্চের পুরোহিত প্রদীপ দে বলেন, “হঠাৎ ট্রান্সফরমার চুরি হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম দুশ্চিন্তায় ও অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছি। বিসিক শিল্প এলাকার অংশবিশেষ ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে বিদ্যুৎহীন। এলাকাটিতে রাতে পুলিশের টহল বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পটিয়া বিসিক শিল্প নগরীর কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির কারণে বিসিক কার্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে নতুন ট্রান্সফরমার বসানোর জন্য ৮৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. সরোয়ার জাহান জানান, ভুক্তভোগী গ্রাহকের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতিরিক্ত টাকা দাবির বিষয়ে অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুনটির খরচের ৫০ শতাংশ গ্রাহককে বহন করতে হয়।
পটিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে বিসিক এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


