হাটহাজারীর পাহাড় ঘেঁষে গোপন অস্ত্র কারখানা সন্ধান: অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৫২

লোকালয়ের আড়ালে গোপন আস্তানা গড়ে তৈরি হচ্ছিল তাজা অস্ত্র ও গোলাবারুদ। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। গোপন সংবাদের জেরে হাটহাজারী থানা পুলিশের সময়োপযোগী ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়েছে পুরো অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং এর দুই মূল কারিগর।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার ৩ নম্বর মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে হাটহাজারী সার্কেলের পুলিশ টিম।

পুলিশ জানায়, মির্জাপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র লোকচক্ষুর অন্তরালে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে আসছিল-এমন গোপন তথ্য পৌঁছায় পুলিশের কাছে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল কোনো সুযোগ না দিয়ে অপরাধীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ বলছে, অভিযানিক টিম যখন আস্তানায় হানা দেয়, তখনো পুরোদমে চলছিল অস্ত্র তৈরির কাজ। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় দুই কারিগরকে।

গ্রেফতাররা হলেন, মির্জাপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মিস্ত্রীর বাড়ির মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. জামাল হোসেন (৪৪) এবং একই এলাকার মালেক ড্রাইভারের বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. কবির।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণ তৈরি ও অর্ধনির্মিত অস্ত্র, তাজা গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্র স্থানীয় বা বাইরের কোনো অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছিল।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে আমরা মির্জাপুর এলাকায় এই অভিযান চালাই। অপরাধীরা যখন অস্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত ছিল, ঠিক তখনই দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও যোগ করেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎস এবং এর পেছনের রুট অনুসন্ধান করতে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই চলছে। হাটহাজারী এলাকাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি